(সুবর্ণচর) নোয়াখালী
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় সরকারি খাস খতিয়ানের জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে তদন্তে অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ২নং চরবাটা ইউনিয়নের আল আমিন প্রজেক্ট সংলগ্ন মেঘনা লেকের পাড়ের নিচের অংশে। অভিযোগ অনুযায়ী, চরবাটা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অর্থদাতা আলমগীর হোসেন তার ছেলে ও আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে এ ঘর নির্মাণ করছেন।
মঙ্গলবার ( ১৩ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ মৌজার ১নং খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত মেঘনা নদীর মরা খালের পূর্ব পাশে অবস্থিত সরকারি খাস জমিতে গোপনে জায়গা দখল করে নির্মাণকাজ চলছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে প্রথমে সেখানে কলাবাগান গড়ে তোলা হয়। পরে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে ভিতরের অংশে ঘর নির্মাণ শুরু করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রভাবশালী একটি চক্র বেদে সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। যাযাবর এসব পরিবারকে সামনে রেখে তারা খাস জমি দখল করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অভিযুক্তরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। প্রভাব খাটিয়ে তারা নির্বিঘ্নে সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করছে। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিসের অসাধু একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে কোটি টাকার খাস জমি নিজেদের নামে বন্দোবস্তও করে নিয়েছে তারা। এতে প্রকৃত ভূমিহীন মানুষ চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সচেতন নাগরিকদের মতে, ভূমিদস্যুদের অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিল করে এসব জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণ অথবা সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা হলে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সরকারি খাস জমি দখল করে ঘর নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মো. হানিফ বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দিয়েছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি খোঁজখবর নিচ্ছি।
এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান জানান, “ঘটনাটি শুনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”