শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

উগ্রবাদী ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে উত্তাল সারা দেশ

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের (৩৫) হত্যার ঘটনায় ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে উত্তাল সারা দেশ। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) হিন্দু উগ্রবাদী সংগঠন ইসকনের সাবেক নেতা ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে তার অনুসারীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। আদালত চিন্ময় কৃষ্ণের জামিন নামঞ্জুর করার সাথে সাথে অরাজক […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ নভেম্বর ২০২৪, ১১:৩০

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের (৩৫) হত্যার ঘটনায় ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে উত্তাল সারা দেশ।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) হিন্দু উগ্রবাদী সংগঠন ইসকনের সাবেক নেতা ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে তার অনুসারীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। আদালত চিন্ময় কৃষ্ণের জামিন নামঞ্জুর করার সাথে সাথে অরাজক

পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়। ভাংচুর চালানো হয় নির্বিচারে। মসজিদে হামলা করা হয় এবং নিরীহ মুসল্লিদের আহত করা হয়। সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিতে মুসলমানদের উদ্দেশ করে গালিগালাজ এবং হামলার জন্য টার্গেট করা হয়। পাশাপাশি তারা প্রিজনভ্যান আটকে চিন্ময় কৃষ্ণকে ছিনিয়ে নেবার চেষ্টা করে।

এ সময় তারা ‘জয় শ্রীরাম’, ‘দালালের গালে গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘জেলের তালা ভাংব, চিন্ময় প্রভূকে আনবো’, ‘কুরুক্ষেত্রের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’ এসব স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের পরিকল্পিত উস্কানিমূলক তৎপরতার মাঝেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল একেবারেই শান্ত। তাদের বুঝিয়ে সরে যেতে বলে।

কিন্তু কোনো কিছুতেই যেন কাজ হচ্ছিল না। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মৃদু লাঠিপেটা করে এবং গ্যাস গান ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় আদালতের নিচতলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা আইনজীবী আলিফকে পাশের জঙ্গল সিনেমা লেনে নিয়ে গিয়ে মারধরের পর কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার পরই সারা দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে।

এ ঘটনায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন নিন্দা জানিয়ে হত্যার বিচার ও ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান বলেন, দেশবিরোধী বিশ্বাসঘাতক চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে উগ্রহিন্দুত্ববাদী ইসকনের কর্মী-সমর্থকরা চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সন্ত্রাসী আক্রমণ চালিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে দিনের আলোতে জনসম্মুখে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ভারতের উসকানি ও মদদে এই ষড়যন্ত্রমূলক অরাজকতা তৈরি করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত ইসকনের কর্মী-সমর্থকদের দ্রুত গ্রেফতার করে শহীদ আলিফ হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। সন্ত্রাসী কার্যক্রমের দায়ে হিন্দুত্ববাদী ইসকনকে অতিসত্বর নিষিদ্ধ করতে হবে।’

তারা আরো বলেন, ‘মুসলমানের রক্তখোর ভারতের হিন্দুত্ববাদী শাসকগোষ্ঠী এদেশে হিন্দু কার্ড খেলে তাদের আধিপত্যবাদ কায়েম রাখতে চায়। তাদের সেবাদাস ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর থেকে ভারত উন্মাদ হয়ে আছে। সে কারণে একের পর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। ভারতের কোনো ফাঁদে পা না দিতে সাধারণ

সনাতনী হিন্দু ভাই-বোনদের প্রতি আমরা জোর আহ্বান করছি। আর যারা ভারতের চক্রান্তের সাথে একীভূত হয়ে দেশবিরোধী অরাজকতা তৈরি করতে সক্রিয়, তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার নজির দেখাতে হবে সরকারকে। আমরা আজকের ঘটনায় শান্ত ও সংযত থেকেছি বটে। কিন্তু এদেশের মুসলমানদের ধৈর্যেরও সীমা রয়েছে তা মাথায় রাখতে হবে।’

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে এ হত্যাকাণ্ডকে জঘন্য এবং নিন্দনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একটি গোষ্ঠী পতিত স্বৈরাচারের পক্ষ নিয়ে বাংলাদেশকে অস্থির করার জন্য ক্রমাগতভাবে দুরভিসন্ধি ও অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থির করে তুলতে চায়। দেশপ্রেমিক জনগণ তাদের দুরভিসন্ধির ব্যাপারে পরিপূর্ণ সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ। তাদের অপচেষ্টা অতীতে যেমন ব্যর্থ হয়েছে, আগামীতেও ব্যর্থ হবে ইনশাআল্লাহ।

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে নোবিপ্রবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ : ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেরর পাদদেশে রাত ৮টায় এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, একটা গ্রুপ দিল্লি বসে আমাদের বিভাজন করার প্রেসক্রিপশন দিচ্ছে ।

বিক্ষোভ সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘ভারতে মুসলমানদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। আর সেই নির্যাতন আমরা আজকে বাংলাদেশেও দেখতে পেয়েছি। তারা সংখ্যালঘুর ট্রাম্প কার্ড ব্যবহার করে উস্কানিতে দিচ্ছে। আমরা তাদের পাতানো ফাঁদে পা দিব না। মুসলমানদের সব সময় ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। আমরা আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের অধিকার নিশ্চিত করব। আমরা শিগগির এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

আরেক শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে একটা গ্রুপ দিল্লিতে বসে আমাদের বিভাজন করার প্রেসক্রিপশন দিচ্ছে। হারপিক মজুমদারসহ সকল খুনিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসে জাতিকে উস্কানি দিচ্ছেন। এ বাংলার মাটিতে আপনাদের বিচার হবে। ৯০ ভাগ মুসলমানদের দেশে সংখ্যালঘুদের আমরা সব সময় নিরাপত্তা দিয়ে আসছি। আজকে যারা সাইফুল ভাইকে হত্যা করেছে, তাদের সুষ্ঠু বিচারের আহ্বান করছি।’

এ সময় তারা ‘ইসকন তুই জঙ্গি, ফ্যাসিবাদের সঙ্গী’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন, রুখে দাও রুখে দাও’, ‘উগ্রবাদের আস্তানা এ বাংলায় হবে না’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

পটুয়াখালীতে ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে পটুয়াখালীতে মশাল মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে একটি মশাল মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি চৌরাস্তায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

এদিকে একই দাবিতে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ, পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে হাজারো শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভকারীরা ইসকনকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে স্লোগান দিয়ে নিষিদ্ধের দাবি জানান।

ফেনীতে বিক্ষোভ

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে ফেনীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্র-জনতা।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত ১০টার দি‌কে শহরের শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ট্রাংক রোড, বড় মসজিদ, মডেল থানা প্রদক্ষিণ করে খেজুর চত্ত্বরে এসে শেষ হয়।

মিছিল শেষে উপস্থিত ছাত্র-জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি মোহাইমিন তাজিম, ওমর ফারুক শুভ ও স্বেচ্ছাসেবক ওসমান গণি রাসেল।

এর আগে মিছিল করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুব সংগঠন।

বক্তারা বলেন, উগ্র-হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও তাদের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তারা প্রকাশ্য-দিবালোকে আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে, মসজিদে হামলা করেছে। সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করে নিজেদের সন্ত্রাসী স্বরুপ প্রকাশ করেছে।

তারা আরো বলেন, এখন সময় এসেছে দেশের সকল মানুষ এক হয়ে ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার। দেশের পতিত আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বিচ্ছিন্নতাবাদী হিন্দুদের সাথে মিশে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে মেতেছে। যেকোনো মূল্যে এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।

ইসকন নিষিদ্ধের দাবি বিক্ষোভে উত্তাল বেরোবি

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার ( ২৬ নভেম্বর) রাত ৯টায় রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ গেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মডার্ন মোড় ঘুরে আবারও আবু শহীদ চত্বরে এসে শেষ হয় মিছিলটি। কয়েক হাজার শিক্ষার্থী মিছিলে অংশ নেন। তারা হত্যাকারী চিন্ময় অনুসারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবিতে নানা স্লোগান দেয়।

পরে সমাবেশ বক্তব্য রাখেন মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব রহমত আলী, জাকির হোসেন, সৌরভ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদিদের উস্কানিতে এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকন সনাতন জাগরণ মঞ্চের ব্যানারে দেশে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরীর চেষ্টা করছে। দেশে সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন সম্পূর্ণ নিরাপদে থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসী চিন্ময়ের তথাকথিত অনুসারীরা আদালতে প্রকাশ্য দিবালোকে গলাকেটে রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাকে খুন করেছে। মসজিদে হামলা, ভাঙচুর করেছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে।’

তারা আরো বলেন, ‘খুনিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে আবারো ছাত্র জনতার বিপ্লব শুরু হবে। একই সাথে সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকনের কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধের দাবিও জানান তারা। এ সময় দেশবাসীকে উস্কানিতে পা না দিয়ে শান্ত থাকারও আহ্বান জানান বক্তারা।’

ইসকনকে অবিলম্বে নিষিদ্ধের দাবি জবি শিক্ষার্থীদের

দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত ও দেশে উগ্রবাদী কার্যক্রম করার দায়ে হিন্দুত্ববাদী উগ্রসংগঠন ইসকনকে অবিলম্বে নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জবি ক্যম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ দাবি জানায় তারা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ ইসকন নিষিদ্ধ’, ‘আমার সোনার বাংলায় ইসকনের ঠাঁই নাই’, ‘ইসকনের কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আমার ভাই খুন কেন, প্রশাসন জবাব চাই’- স্লোগান দেয়।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুম বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে কিছুদিন ধরে চক্রান্ত করে যাচ্ছে উগ্রবাদী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন। তারই প্রতিচ্ছবি চট্টগ্রামে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ ভাইয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইন অনুযায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

নাইমুর রহমান নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ভারত আমাদের সার্বভৌমত্বকে ভেঙে দেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছে। ইসকান তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চাই ইসকনকে নিষিদ্ধ করা হোক। সাইফুল ইসলাম আলিফ ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করা হোক।’

এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস্ সোসাইটির সভাপতি জুনায়েদ মাসুদ বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে ভারতের মদদে এদেশের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন অখণ্ড ভারত করার দিবাস্বপ্ন দেখে যাচ্ছে। আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম দেশে এই ইসকন বিভিন্ন সময় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেয়েছে আজও করছে। গত ৫ আগস্টে পরাজিত শক্তি ফ্যাসিস্ট হাসিনা ভারতে পালিয়ে গিয়ে সেখানে বসে দেশের

বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতেছে। তার সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উগ্র-হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন আদালত চত্বরেই এক আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যা করে। আমরা দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। দেশে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হোক তা আমরা চাই না। অবিলম্বে আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে বিচার করার জোর দাবি জানাই।’

ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবিতে হাবিপ্রবিতে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে আদালত প্রাঙ্গনে ইসকন-সমর্থক কর্তৃক আইনজীবীকে হত্যার প্রতিবাদ ও ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রধান ফটকে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি শেষ হয়।

এতে দেড় হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়।

বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘সনাতন-মুসলিম ভাই-ভাই, বাংলাদেশে ইসকনের কোনো ঠাঁই নাই’, ‘সনাতন-মুসলিম ভাই-ভাই, হাবিপ্রবিতে ইসকনের ঠাঁই না’, ‘অ্যাকশান অ্যাকশান ডাইরেক্ট অ্যাকশান, ইসকনের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ইসকনের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘জঙ্গিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘দিল্লী না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামের আদালত প্রাঙ্গনে ইসকন কর্তৃক আইনজীবী হত্যার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা সনাতন-মুসলিম ভাই-ভাই। সনাতন আর ইসকনকে আমরা আলাদা মনে করি। ইসকন মূলত একটি উগ্রবাদী সংগঠন। বাংলাদেশে ভারতীয় অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে ইসকন। আর ইসকনকে সমর্থন দিয়ে যারাই মাঠে নামবে আমরা তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য সবসময় প্রস্তুত। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেনো ইসকনকে উগ্রবাদী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।’

এ সময় তারা আরো বলেন, ‘ছাত্রশিবির বলেন, ছাত্রদল বলেন, তাবলীগ বলেন- এই বিষয়ে আমরা সবাই একতাবদ্ধ। আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে যে বা যারা ষড়যন্ত্র করছে বা করবে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সেই ষড়যন্ত্র রুখে দেবো।’

আগামীকাল বুধবার জোহরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে চট্টগ্রামে নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের (৩৫) গায়েবানা জানাজা এবং জানাজা শেষে আবারো বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে মিরসরাইয়ে বিক্ষোভ

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে তৌহিদী জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ ও পথসভার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার ৮টার দিকে উপজেলার বারইয়ারহাট পৌর বাজারে এ বিক্ষোভ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র অধ্যক্ষ চিন্ময় দাস ব্রহ্মচারীকে মুক্তির দাবিতে আন্দোলনকারীদের হামলায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তারা বলেন, ‘চিন্ময় দাস গ্রেফতারের পর তারা ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশী ইসকনরা বিচার চেয়েছে, এটি কি রাষ্ট্রদ্রোহীতা নয়? বাংলাদেশের আইন আদালত কোথায় গিয়েছে। তারা সরকারের কাছে বিচার চাইতে পারতেন। তা না করে তারা সাইফুল ইসলামকে হত্যা করেছেন।’

তারা আরো বলেন, ‘আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা আমাদের জন্মভূমিকে প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে আবার রক্ষা করব।’

এ সময় বক্তব্য রাখেন আহমেদ হাসান জাবের, মঞ্জুর এলাহি সৈকত এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য তাহমিদ খান প্রমুখ।

হাটহাজারীতে ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে ‘ইসকন অনুসারীদের গলা কেটে’ হত্যার প্রতিবাদে এবং ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে হাটহাজারীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার পর থেকে বিক্ষোভ করে হাটহাজারী পৌরসভার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও তৌহিদী জনতা।

বিক্ষোভে ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘আমার ভাই শহীদ কেন, জবাব দে, জবাব দে’, ‘মসজিদে হামলা কেন, জবাব দে, জবাব দে’, ‘সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকন নিষিদ্ধ করো, করতে হবে’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়।

এদিকে, মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দিবাগত রাতে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে চিন্ময় দাসের জামিন না হওয়ায় কারাগার অভিমুখে লংমার্চ করার ঘোষণা দিয়েছে জোটের নেতারা।

আজ বুধবার তার জামিন না হলে সারা দেশে সম্মিলিতভাবে আন্দোলন করে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

জাতীয়

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত […]

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা রয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের পরিচয় জনসম্মুখে আনা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য সিআইডি-তে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ডিবি পুলিশ উদ্ধার করেছে।

হত্যাকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার জানান, তদন্তে ২১৮ কোটি টাকার সই করা একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে, যা ঘটনার অর্থনৈতিক যোগসূত্র বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

তিনি বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৭ জানুয়ারির মধ্যেই এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাদির হত্যার বিচার দাবিতে শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ। এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চ ও জুলাই মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচি শুরু হলে এতে সমাজের নানা স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়।

জাতীয়

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা […]

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৭

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা জানতে পেরেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। যাদের কয়েকজন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

সূত্র জানায়, শাহীন চেয়ারম্যান ছাড়াও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হাদির ওপর হামলার পর ঘাতকদের ঢাকা থেকে সীমান্ত পর্যন্ত পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন এই হামিদ। জুলাই বিপ্লবে শরিফ ওসমান হাদির ভূমিকা এবং গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ চরম ক্ষুব্ধ ছিল। দলটি হাদিকে আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসরদের জন্য বড় বিপদ হিসাবে চিহ্নিত করে। এরপর হিটলিস্টের প্রথম টার্গেট হিসাবে হাদিকে হত্যার ছক কষা হয়।

জানা যায়, শাহীন আহমেদ দীর্ঘদিন ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তবে তিনি মাফিয়া ডন হিসাবেই বেশি পরিচিত। শেখ হাসিনা আমলে তিনি ছিলেন সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ডানহাত। চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং অস্ত্রধারী হিসাবে তার নাম পুলিশের খাতায় অনেক আগে থেকে তালিকাভুক্ত ছিল। বহুবিধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বরং প্রশাসন তাকে সমীহ করে চলত। এসব প্রভাব প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে তিনি একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকের মতো শাহীন চেয়ারম্যানও সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে যেতে সক্ষম হন। সেখানে পলাতক অবস্থায় তিনি দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকলেও গত ৩-৪ মাস থেকে খোলস ছেড়ে পুরোনো চেহারায় আবির্ভূত হন। সম্প্রতি তিনি দেশের মধ্যে আওয়ামী লীগের হিটলিস্ট প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন অ্যাপসে মুঠোফোনে দেশে থাকা স্লিপার সেলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং খুদেবার্তার (এসএমএস) সূত্রে হাদি হত্যায় শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ঘটনার আগে ও পরে কিলারদের সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের একাধিকবার যোগাযোগ করার প্রমাণও মিলেছে। এছাড়া ভারতে পলাতক থাকা আরও কয়েকটি গ্রুপ অ্যাপস ব্যবহার করে ঢাকায় জড়ো স্লিপার সেলের সদস্যদের কাজ সমন্বয় করছে। যাদের অনেকে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে চলে এসেছে। কানের ডাক্তার তাহের পপুলার

সূত্র বলছে, হাদি হত্যা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এজন্য গ্রেফতারকৃত আসামিদের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার টিমসহ যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া পলাতক শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত কেরানীগঞ্জ জেলার দুজন ছাত্রলীগ নেতাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম শুক্রবার রাতে বলেন, ‘আমরা সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত করছি। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগিরই এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ডসহ পরিকল্পনাকারীদের সবার নামই জানা সম্ভব হবে।’

জাতীয়

ফয়সালের জামিনে যুক্ত ছিলো বড় রাজনৈতিক দলের নেতার প্রভাবশালী আইনজীবীরা : আইন উপদেষ্টা

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। আইন উপদেষ্টা ড. […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪৮

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন।

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের ‘জামিন বিতর্ক’ শীর্ষক ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো—

আমাদের প্রিয় ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ করেছে ফয়সাল করিম মাসুদ নামের এক ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী। তাকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করেছিল গত বছর। এরপর তার জামিন হয়েছে হাইকোর্ট থেকে। এই প্রসঙ্গে, জামিন দেওয়ার ন্যয্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আবারও আলোচনা-বিতর্ক উঠছে।

প্রথমেই বলে রাখি, হাইকোর্ট বিচারিক কাজে স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। হাইকোর্টের ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো নিয়ন্ত্রণ পৃথিবীর কোনো দেশে থাকে না, বাংলাদেশেও নেই। কাজেই সেখানে ফয়সাল করিম মাসুদের জামিন হওয়ার সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

ফয়সাল করিম মাসুদ গত বছর জামিন পেয়েছিল অস্ত্র মামলায়। হাইকোর্টে অস্ত্র মামলার জামিন সহজে হওয়ার কথা নয়। এটি তখনই হতে পারে যখন প্রভাবশালী আইনজীবীরা এসব মামলায় জামিন দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। এই আইনজীবীরা অধিকাংশই বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রভাবে এসব জামিন হওয়া সহজতর হয়।

হাইকোর্টের প্রদত্ত জামিনে বিচারিক বিবেচনা কতটা থাকে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকে। যেমন : হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে কীভাবে চার ঘণ্টায় ৮০০ মামলায় জামিন হয়েছিল, তা নিয়ে আমি কয়েক মাস আগে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলাম (২৩ অক্টোবর, ২০২৫)। এজন্য এক শ্রেণীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আমার পদত্যাগ পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল (২৫ অক্টোবর ২০২৫)।

২. জামিন পাওয়ার সুযোগ আমাদের আইনে রয়েছে। কিন্তু গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যে অপরাধীর সংযোগ অত্যন্ত স্পষ্ট, যে অপরাধী চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং যে ব্যক্তি জামিন পেলে পুনরায় অপরাধ করতে পারে বা অন্য কারও জীবন বিপন্ন করতে পারে, তাকে জামিন দেওয়া অস্বাভাবিক ও অসঙ্গত। এ নিয়ে আমি প্রকাশ্যে বলেছি। মাননীয় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় উনার কাছে উচ্চ আদালতে অস্বাভাবিক জামিন নিয়ে আমার উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলাম।

কিছু জামিন নিম্ন আদালত থেকেও হয়েছে গত ১৬ মাসে। আমরা সেসব মামলার কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব মামলায় আসামি কীভাবে অপরাধটিতে জড়িত, পুলিশ তার কোনো তথ্য অভিযোগপত্রে দেয়নি, এমনকি আসামির দলীয় পরিচয় পর্যন্তও মামলার কোনো কাগজে উল্লেখ করেনি। এরপরও আমি যথাযথ বিচারিক বিবেচনা না করে যেনতেনভাবে জামিন না প্রদান করার কথা বলেছি (১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)। কিছু ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

৩. জামিন বাণিজ্যে যারা লিপ্ত আছেন, তাদেরকে বলছি—এবার থামুন। আমাদের ছেলেদের জীবন বিপন্ন করার মতো সিদ্ধান্ত দেবেন না। এক গণহত্যাকারী পাশের দেশে বসে আমাদের জুলাই বীরদের হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। বিচারিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে জামিন দিয়ে সেই গণহত্যাকারীর অনুসারীদের এই সুযোগ করে দেবেন না। না হলে, পরকালেও এর দায় আপনাদের নিতে হবে।