রবিউল আলম, কুমিল্লা প্রতিনিধি
সেবা আরও সহজ, সমন্বিত ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আজ শুক্রবার কুমিল্লার সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও উদ্যোক্তাদের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ ডিজিটাল সেন্টারের নির্বাচিত ১০০ জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মোঃ নবীর উদ্দীন এবং এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম।
উক্ত কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার মোঃ সালমান ফার্সি। আরও উপস্থিত ছিলেন এটুআই-এর হেড অব কমিউনিকেশনস মোহাম্মদ সফিউল আযম, ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর অশোক কুমার বিশ্বাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন প্রমুখ।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, নাগরিক সেবা বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী সংস্কারমূলক উদ্যোগ, যার মূল লক্ষ্য হলো সরকারি সেবায় নাগরিকদের প্রবেশাধিকার সহজ করা, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানো এবং এক ছাদের নিচে সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সেবাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এক জায়গা থেকেই সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা সেবার মান ও দক্ষতা উভয়ই বৃদ্ধি করবে। তিনি আরও বলেন, নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলো স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের সেবাদানের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিফলন হবে।
সেবাগ্রহীতার আস্থা, সন্তুষ্টি ও অভিজ্ঞতাই হবে এই উদ্যোগের সফলতার প্রধান মানদণ্ড। টেকসই, নিরাপদ ও নাগরিকবান্ধব সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমেই এই সংস্কার কার্যক্রমের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের উদ্যোক্তারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ভূমিকা পালন করবেন। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁরাই নাগরিক সেবা কেন্দ্রের মুখ্য চালিকাশক্তি এবং সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে কাজ করবেন। একই সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, একীভূত নাগরিক সেবা প্ল্যাটফর্ম চালু হওয়ায় এখন নাগরিকরা নাগরিক সেবা কেন্দ্র থেকে এক জায়গাতেই ৪৯৩টি সেবা গ্রহণ করতে পারছেন, যা সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ ও সময়সাশ্রয়ী করেছে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ভোগান্তি কমেছে এবং সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সঠিক ব্র্যান্ডিং ও দায়িত্বশীল প্রচারণার মাধ্যমে নাগরিক সেবা কেন্দ্রকে মানুষের আস্থার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভরতার সঙ্গে এসব সেবা গ্রহণে আগ্রহী হয়। বাস্তবভিত্তিক, স্বচ্ছ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই নাগরিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রধান ভিত্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মোঃ রেজা হাসান বলেন, উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনের সমন্বিত ও কার্যকর সহযোগিতার মাধ্যমে এই উদ্যোগ দ্রুত ও সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এবং এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ ও গতিশীল হবে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করে বলেন, এসব সেবা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি।
নাগরিকদের জানাতে হবে কী কী সেবা পাওয়া যাচ্ছে, কীভাবে সেবা গ্রহণ করা যাবে এবং এর মাধ্যমে তাঁরা কীভাবে উপকৃত হবেন। সঠিক তথ্য ও সচেতনতা নিশ্চিত করা গেলে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং এই উদ্যোগ আরও টেকসই হবে।
উদ্যোক্তারা জানান, দিনব্যাপী এই কর্মশালার মাধ্যমে তাঁরা ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ উদ্যোগ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করেন এবং নিজ নিজ এলাকায় নাগরিক সেবা কেন্দ্র বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।