মোঃআতেফ ভূঁইয়া, গাজীপুর সদর
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পূবাইল থানাধীন ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণকুল এলাকায় সরকারি রাস্তা রদবদল করে দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শাজাহান মিয়া নামের এক ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত সরকারি রাস্তার অবস্থান পরিবর্তন করিয়ে পরিকল্পিতভাবে সেই রাস্তায় সিমেন্টের খুঁটি বসিয়ে ব্যক্তিগত দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন বসুগাঁও থেকে নারায়ণকুল পর্যন্ত সড়কটি ৪০ ফুট প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ সময় শাজাহান মিয়া তার কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি ও জমি রক্ষা করার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী একটি মহলের সহযোগিতায় বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে সরকারি রাস্তার ‘রানিং’ জমি বাদ দিয়ে অন্যের মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে রাস্তার পথ পরিবর্তন করান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সর্বশেষ গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে সরকারি রাস্তার জমিতে সারিবদ্ধভাবে সিমেন্টের খুঁটি বসিয়ে সেটিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা চালানো হয়। বিষয়টি এমনভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে, যেন ভবিষ্যতে এটিকে ব্যক্তিগত জমি দাবি করা যায়।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—একটি সরকারি রাস্তার অবস্থান পরিবর্তন করার ক্ষমতা শাজাহান মিয়াকে কে দিল? কোন দপ্তরের অনুমতি, কোন নকশা ও ছাড়পত্র নিয়ে গভীর রাতে এই কাজ করা হলো?
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাজাহান মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে, যেসব স্থানে সিমেন্টের খুঁটি বসানো হয়েছে সেগুলো সরকারি জমি। তিনি আরও বলেন, কাজটি আইনগতভাবে সঠিক হয়নি। তবে ২০২১ সালে কার নির্দেশে ও কার ইশারায় সরকারি রাস্তা রদবদল করা হয়েছিল—সে প্রশ্নে তিনি এড়িয়ে যান।
সরকারি সম্পত্তিতে প্রকাশ্যে দখলের এমন স্পষ্ট আলামত থাকার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। চিত্রে দেখা যায়, রাস্তাসংলগ্ন এলাকায় সারিবদ্ধভাবে সিমেন্টের খুঁটি বসানো হয়েছে, যা সুস্পষ্টভাবে পরিকল্পিত দখল কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয়দের দাবি, এসব কাজ দিনের আলোতে নয়—সবই করা হয়েছে রাতের অন্ধকারে, যাতে কেউ বাধা দিতে না পারে।
এ ঘটনায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। সরকারি রাস্তা রক্ষা ও জনস্বার্থ সংরক্ষণের দায়িত্ব যাদের, তাদের চোখের সামনেই কীভাবে এমন রদবদল ও দখল কার্যক্রম সংঘটিত হলো—তা নিয়ে অবিলম্বে তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।