দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে আজ এক অনন্য ভোরে তিনি দেশের মাটিতে পা রাখছেন। এই প্রত্যাবর্তনকে তার অনুসারীরা কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরা হিসেবে দেখছেন না; বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন।
লন্ডন ত্যাগের ঠিক আগে নিজের ফেসবুক পেজে একটি ছবি শেয়ার করে এক শব্দের ক্যাপশন দেন তারেক রহমান—“ফেরা”।
ছোট এই শব্দটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনদের অনেকের মতে, এই ‘ফেরা’র ভেতর লুকিয়ে আছে দীর্ঘ প্রবাস জীবনের নিঃসঙ্গতা, দেশের মানুষের প্রতি গভীর টান এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে আবেগঘন দিক হয়ে উঠেছে তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া–এর সঙ্গে পুনর্মিলন। দীর্ঘ সময় অসুস্থ মায়ের পাশে থাকতে না পারার যে শূন্যতা তিনি বহন করে এসেছেন, আজ তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। দলীয় সূত্র জানায়, বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি মায়ের সঙ্গে সাক্ষাতে যেতে পারেন।
বিএনপির নেতারা বলছেন, স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন ছাত্র-জনতা দেখেছে, তারেক রহমানের নেতৃত্ব সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে পারে। দলটির মতে, তার প্রত্যাবর্তন রাজনীতিতে নতুন গতি ও দিকনির্দেশনা দেবে।
ভোররাত থেকেই বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। ব্যানার, ফেস্টুন আর স্লোগানে মুখর চারপাশ। হাজার হাজার মানুষ প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার আশায় রাস্তার দুপাশে অবস্থান নিয়েছেন।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যে তারেক রহমান বারবার একটি কথাই জোর দিয়ে বলেছেন—প্রতিহিংসা নয়, তিনি চান সংস্কার ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ।
তার এই ফেরা ক্ষমতার জন্য নয়; বরং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর আদর্শে এবং বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনৈতিক চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন—এমনটাই মনে করছেন তার সমর্থকরা।
ভোরের আলো ফোটার আগেই আজ টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এক নতুন প্রত্যাশায় বুক বাঁধছে দেশ। তারেক রহমানের এই “ফেরা”—অনেকের চোখে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রার প্রতীক।