মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুন্সিগঞ্জ জেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঢেলে সাজাচ্ছে প্রশাসন। নির্বাচনকে ঘিরে জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মূল্যায়নে মোট ৪৬৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৭২টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন ও জেলা পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অতীতের নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা, রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রভাবশালী প্রার্থীদের অবস্থান এবং ভৌগোলিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রগুলোর ঝুঁকি নিরূপণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ২৭২টি কেন্দ্রকে অতিঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৯৭টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে ধরা হলেও সেখানেও নিয়মিত নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখা হবে।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ লাখ ১৯ হাজার ৬১৪ জন। ভোটার তালিকায় পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৭ লাখ ৩০ হাজার ৪৩৫ জন এবং নারী ভোটার ৬ লাখ ৮৯ হাজার ১৭৫ জন। পাশাপাশি ভোটার তালিকায় হিজড়া জনগোষ্ঠীর চারজন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভোটার উপস্থিতি নির্বিঘ্ন রাখতে কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
ভোটকেন্দ্র ও কক্ষ প্রস্তুতির চিত্র অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনে ১৭০টি ভোটকেন্দ্রে মোট ১ হাজার ৬০টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে ১৩০টি ভোটকেন্দ্রের আওতায় ৭৭৪টি ভোটকক্ষ এবং মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে ১৬৯টি ভোটকেন্দ্রের অধীনে ১ হাজার ১৭টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের পাশাপাশি র্যাপিড রেসপন্স টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
তিনি জানান, নির্বাচন চলাকালে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালানো হবে।
এদিকে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দা নুরমহল আশরাফী জানান, সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
সে লক্ষ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করার পাশাপাশি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন নিশ্চিত করতে সড়ক ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বয় করা হচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ টিম।
তিনি আরও বলেন, ভোটাররা যাতে ভয়ভীতি ছাড়াই কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুন্সিগঞ্জজুড়ে এখন বাড়তি সতর্কতা ও প্রশাসনিক তৎপরতা চোখে পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জেলার মানুষ একটি শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করছে।