ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন খেলাফত আন্দোলনের নেত্রকোনা–২ আসনে মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী গাজী আব্দুর রহীম রুহি।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে নেত্রকোনায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গাজী আব্দুর রহীম বলেন, ‘ভারতীয় প্রেসক্রিপশনে পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আমার ভাই হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নির্বাচন পরে হবে। আগে আমার ভাইয়ের রক্তের হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
হত্যার বিচার ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনা হতে পারে না।’ তিনি দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ড শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে নয়, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও স্বাধীন কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে দেশে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান গড়ে উঠবে। জনগণ আর কোনো অন্যায় ও অবিচার মেনে নেবে না।’ এ সময় তিনি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকা–৮ আসনে নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় তিনি মারা যান।
হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন স্থানে ছাত্রজনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।