বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

খুনিয়াপালংয়ে বিএনপি সভাপতির সহযোগিতায় ‎শতবর্ষী কবরস্থান দখলের পাঁয়তারা ‎সাজানো মামলায় প্রতিবাদী গ্রামবাসীকে এলাকা ছাড়ার অভিযোগ

‎কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং এলাকায় শত বছরের একটি কবরস্থান দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে একটি চিহ্নিত দখলবাজ চক্র—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। কবরস্থান দখল পাকাপোক্ত করতে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা। ওই মামলায় সত্তরোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ কারাগারে পাঠালেও পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র […]

খুনিয়াপালংয়ে বিএনপি সভাপতির সহযোগিতায় ‎শতবর্ষী কবরস্থান দখলের পাঁয়তারা ‎সাজানো মামলায় প্রতিবাদী গ্রামবাসীকে এলাকা ছাড়ার অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯:৩৯

‎কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং এলাকায় শত বছরের একটি কবরস্থান দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে একটি চিহ্নিত দখলবাজ চক্র—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। কবরস্থান দখল পাকাপোক্ত করতে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা।

ওই মামলায় সত্তরোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ কারাগারে পাঠালেও পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ব ধেছুয়াপালং আল হাসান মসজিদের সংলগ্ন একটি বিশাল ও প্রাচীন কবরস্থান দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী ব্যবহার করে আসছে। সম্প্রতি ওই কবরস্থানের ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে খুনিয়াপালং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এস এম ফরিদ, তার ভাই এস এম জসিম ও জয়নাল আবেদীনসহ একটি গোষ্ঠীর। তারা কবরস্থান দখলের চেষ্টা চালালে স্থানীয়রা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।

‎কিন্তু কবরস্থান দখলের প্রতিবাদ করায় সত্তরোর্ধ্ব এজাহার মিয়াসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২০–৩০ জনকে আসামি করে জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, প্রতিবাদকারী গ্রামবাসীকে আসামি করে এলাকা ছাড়া করতেই পরিকল্পিতভাবে এই সাজানো মামলা করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

‎সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, কবরস্থান দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, একটি কবরস্থান দখলের ঘটনায় রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততা থাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি বিএনপির ঘরানার লোকজনের মধ্যেও এ নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

‎ভুক্তভোগী এজাহার মিয়া জানান, দখলবাজ চক্র ইতিমধ্যে কবরস্থানের একটি অংশ দখল করে সেখানে বসতি স্থাপন করেছে এবং রোহিঙ্গাদের ভাড়া দিয়েছে। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানালে ইউএনও স্থানীয় ভূমি অফিসে প্রতিবেদন চেয়ে পাঠান। পরে ভূমি কর্মকর্তা জমিটিকে কবরস্থান ও জানাজার মাঠ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেন।

‎স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কবরস্থানের জায়গায় তিন থেকে চারটি কাঁচা ঘর রয়েছে, যেখানে রোহিঙ্গারা বসবাস করছে।

‎খুনিয়াপালং ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সলিম উল্লাহ সরেজমিন তদন্ত শেষে প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি কবরস্থান ও জানাজার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

‎‎এব্যাপারে খুনিয়াপালং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এসএম ফরিদ বলেন, ‘যে জমিটি নিয়ে বিরোধ চলছে সেটি আমার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন নয়; বরং এটি আমার চাচাতো ভাইদের দখলে থাকা সম্পত্তি। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে আমার চাচারা ওই জমি দখল ও ভোগ করে আসছেন।’

‎‎তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে ওখানে জানাযার মাঠ ঠিকই আছে। কবর দেওয়ার জন্য মসজিদের পাশে পর্যাপ্ত জায়গাও রয়েছে। ২০০০ সালে আমার দাদার কবর সেখানে দেওয়া হয়। এবং সেখানেই সবার কবর দেওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু তা অমান্য করে প্রতিপক্ষ গায়ের জোরে বিচারাধীন জমিতে প্রবেশ করে অযথা ঝামেলা সৃষ্টি করছে। ২০২১ সালে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে এসে দখলীয় জমির সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। অথচ ২০২৫ সালে এসে তারা আবারও ওই জমি নিজেদের দাবি করে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা শুরু করেছে।’

‎এসএম ফরিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘অন্যের দখলীয় জমিতে এসে বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পায়তারা করা হচ্ছে। ভাঙচুরের ঘটনার সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতেই অভিযুক্তরা নিজেরাই চিহ্নিত হয়ে মামলার আসামি হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে এসেছে।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পর এ বিষয়ে একটি বৈঠক বসার কথা থাকলেও প্রতিপক্ষ তা মানছে না। বরং প্রতিনিয়ত হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে থানা পুলিশ শিগগিরই এ বিষয়ে একটি বৈঠক বসবে বলে উভয় পক্ষকে আশ্বস্ত করেছে।’

‎অন্যদিকে এলাকাবাসী কবরস্থান উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।