ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ–৫ (সদর–বন্দর) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই ঘোষণা দেন।
তার এ সিদ্ধান্তে স্থানীয় রাজনীতি ও জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পেছনে দুটি প্রধান কারণ তুলে ধরেন মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করছেন। একই সঙ্গে তার পরিবারও চান না যে তিনি এই পরিস্থিতিতে ভোটের মাঠে থাকুন। এই দুই কারণ বিবেচনায় নিয়েই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
গত সেপ্টেম্বর মাসে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী মডেল ডি ক্যাপিটাল গ্রুপের মালিক এবং নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি। যদিও বিএনপিতে যোগদানের আগে থেকেই তিনি দলটির ঘনিষ্ঠ ও বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলে যোগ দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যবসায়ী ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত মাসুদের মনোনয়ন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারত। তবে ভোটের লড়াই শুরুর আগেই তার সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা সেই সম্ভাবনাকে আপাতত বন্ধ করে দিল।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ–৫ আসন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে আলোচিত। অতীতে এই আসনে ওসমান পরিবারের শক্ত প্রভাব ও আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। শামীম ওসমানের ভাই নাসিম ওসমান একাধিকবার এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ফলে এই আসনে বিএনপির প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় নির্বাচনী সমীকরণ নতুন করে বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাসুদুজ্জামান মাসুদের এই ঘোষণার পর বিএনপি এখন নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।