নুর মোহাম্মদ, কক্সবাজার প্রতিনিধি
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত ‘রাজাকার ঘৃণাস্তম্ভে’ জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেছে একদল শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। এ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের দেখা দিয়েছে। রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া ভবনের সামনে অবস্থিত ঘৃণাস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি শুরু হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য উপহার দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে দেখা গেছে।
ঘৃণাস্তম্ভের পেছনের দেয়ালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদের ছবি ছাড়াও চৌধুরী মঈনুদ্দীন, অপারেশন সার্চলাইটের অন্যতম পরিকল্পনাকারী খাদিম হোসেন রাজা, পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে গোলাম আযমের বৈঠকের ছবি এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আটক রাজাকার বাহিনীর বিভিন্ন ছবি টাঙানো ছিল।
এ কর্মসূচির প্রতিবাদ জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রহিম নূরী। তিনি রবিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
ফেসবুক পোস্টে আব্দুর রহিম নূরী লিখেছেন, শহিদ নিজামী, গোলাম আযম ও কাদের মোল্লাকে তিনি ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের শহিদ নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তাদের নিয়ে অবমাননাকর কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েই একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে শহিদ নেতাদের নিয়ে অবমাননায় নেমেছে। তিনি অভিযোগ করেন, পতিত সরকারের সময় অনুসৃত রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করেই এখন এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।
তিনি লেখেন, তারা কোনো ‘পাতানো ফাঁদে পা দিতে চান না’, তবে শহিদদের মর্যাদা নিয়ে অবমাননা বরদাশত করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন।
এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে দেখলেও, অন্যরা এটিকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর শঙ্কা হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রাজনৈতিক দল বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন কর্মসূচি ও পাল্টা বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে উত্তাপ সৃষ্টি করতে পারে।