বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ বলেছেন, রাজনীতি করতে গিয়ে তার বাবাকে ১১ বার জেলে যেতে হয়েছে এবং পরিবারের সবাইকে দীর্ঘদিন নানা নির্যাতন ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। তবুও তারা একটি সুন্দর ও ভালো সময়ের স্বপ্ন দেখেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মহেশালী গ্রামে এক উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন মির্জা সাফারুহ।
তিনি বলেন, “আপনাদের পাশে থাকার কারণেই আমার বাবাকে বারবার জেলে যেতে হয়েছে। শুধু রাজনীতি করার জন্য এবং আপনাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলার জন্য। আপনারা যেমন অত্যাচারিত হয়েছেন, আমরাও কম কষ্ট পাইনি। তারপরও আমরা একটা সুদিন দেখতে চাই, সুন্দর একটা সময় দেখতে চাই।”
স্থানীয় ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন এবং ধানের শীষে ভোট দিয়ে আবারও তাকে বিজয়ী করবেন। তিনি শুধু ঠাকুরগাঁওয়ের নয়, পুরো বাংলাদেশের মহাসচিব।”
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা সাফারুহ বলেন, “আমরা সবসময় হিন্দু মা-বোনদের পাশে ছিলাম। আমার বাবা ছোটবেলা থেকেই পূজার সময় আমাদের মন্দিরে নিয়ে যেতেন। আমরা হিন্দু-মুসলমান একসাথে বসবাস করার মানসিকতার মানুষ।” ধর্মের নামে ভোট চাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো মার্কা মানুষকে জান্নাত বা দোজখে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয় না; নিজের আমলই মানুষের পরিচয় নির্ধারণ করে।
নারীদের উদ্দেশে তিনি বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কথা তুলে ধরে বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন এবং পরিবারের মধ্যে সম্মান বৃদ্ধি পাবে। চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সুবিধা এই কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শেষে মির্জা সাফারুহ বলেন, “আমাদের সমাজের অর্ধেক নারী। সন্তান লালন-পালন থেকে শুরু করে সমাজ গঠনে নারীদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। ধানের শীষ এই বিষয়টি সবসময় গুরুত্ব দেয়। তাই আপনারা আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন এবং ধানের শীষে ভোট দেবেন।”
উঠান বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।