কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়ে একমঞ্চে হাজির হয়েছেন মনোনয়ন বঞ্চিত পাঁচ বিএনপি নেতা।
সোমবার দুপুরে শহরের স্টেশন রোডে মনোনয়ন প্রত্যাশী রেজাউল করিম খান চুন্নুর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি উত্থাপন করেন। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান রেখেও মনোনীত প্রার্থীকে “অযোগ্য” উল্লেখ করে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তারা।
লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি যাকে প্রার্থী করেছে, তিনি নানা অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তির হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতাশ। স্থানীয় নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য যারা মাঠে-ঘাটে কাজ করেছেন, তাদের প্রবল প্রত্যাশা উপেক্ষা করে একজন বিতর্কিত প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি মাসুদ হিলালী, সাবেক বিভাগীয় স্পেশাল জজ রেজাউল করিম খান চুন্নু, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল হোসাইন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম ও সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল। তারা দাবি করেন, দলের নেতাকর্মীদের বড় অংশই মাজহারুল ইসলামকে গ্রহণ করতে পারছেন না। এলাকাবাসীর সমর্থনও মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নেই বলে উল্লেখ করেন তারা।
নেতারা আরও বলেন, দলের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি। একজন অগ্রহণযোগ্য প্রার্থী দলের বিজয়ের সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ণ করবে। তাই তৃণমূলের মতামত ও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনা করে মনোনয়ন বাতিল করে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী পুনর্নির্ধারণের আহ্বান জানান তারা।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে বিএনপির ভেতরে বাড়তে থাকা মতপার্থক্যের আরেকটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে দলের ঐক্যহীনতা কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির লড়াইকে কঠিন করে তুলবে বলে মত বিশ্লেষকদের।