ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুর মানদিয়া বাজারে পথসভা শেষে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দেশে নির্বাচন সামনে রেখে নতুন করে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তাঁর অভিযোগ, একটি কুচক্রী মহল ১/১১-এর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছে এবং সেই মহলই শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর এজেন্ডা নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—তা কেউ থামাতে পারবে না। নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হবে এবং এ বিষয়ে সরকার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে বলেও জানান তিনি।
রাশেদ খান বলেন, মামলা বা আইনি কোনো জটিলতা দেখিয়ে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে নির্বাচন স্থগিত করার সুযোগ আর দেওয়া হবে না। নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী এগিয়ে যাবে—এমন দৃঢ় অবস্থানই জনসভায় তুলে ধরেন তিনি। জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের বক্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। রাশেদ খানের বক্তব্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও তাঁরা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান দিচ্ছেন না, যা জনগণ মেনে নেবে না।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে তিনি বলেন, শুধু আওয়ামী লীগ নয়—জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের সব অপরাধের বিচার হওয়া জরুরি। যারা ২০২৪ সালের নির্বাচনে অন্যায়ভাবে অংশ নিয়েছে, তাদের আসন্ন নির্বাচনে সুযোগ দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রসঙ্গে রাশেদ খান জানান, গণঅধিকার পরিষদ ইতোমধ্যে ২০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তিনি নিজে ঝিনাইদহ-২ আসনে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপির সঙ্গে ২০২২ সাল থেকে যৌথ আন্দোলন চলছে এবং তফসিল ঘোষণার পর জোটের চূড়ান্ত কাঠামো প্রকাশ করা হবে।
পথসভাটি আয়োজন করে জেলা গণঅধিকার পরিষদ। সভায় জেলা সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ ইকবাল রাজন, যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মিশন আলী এবং পেশাজীবী অধিকার পরিষদের সভাপতি রাসের আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।