মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

যুক্তির চেয়ে উচ্চতর অবস্থান নেই, সমস্ত কুরআন বুদ্ধিবৃত্তিক: ইরানি দার্শনিক

প্রখ্যাত ইরানি দার্শনিক অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বলেছেন, বর্তমানে মানবজাতির সংকট হল এটা যে মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজ ইচ্ছাগুলোর পেছনে ছুটছে এবং আকল্‌ বা বুদ্ধিবৃত্তি তথা জ্ঞানকে ধামাচাপা দিচ্ছে। বার্তা সংস্থা ইকনা জানিয়েছে, প্রজ্ঞা ও দর্শন দিবস উপলক্ষে এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বুদ্ধিবৃত্তি বা আক্‌লের শ্রেষ্ঠত্ব, ইচ্ছা ও জানা বা জ্ঞানের মধ্যে দ্বন্দ্ব, […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ নভেম্বর ২০২৪, ১২:১৭

প্রখ্যাত ইরানি দার্শনিক অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বলেছেন, বর্তমানে মানবজাতির সংকট হল এটা যে মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজ ইচ্ছাগুলোর পেছনে ছুটছে এবং আকল্‌ বা বুদ্ধিবৃত্তি তথা জ্ঞানকে ধামাচাপা দিচ্ছে।

বার্তা সংস্থা ইকনা জানিয়েছে, প্রজ্ঞা ও দর্শন দিবস উপলক্ষে এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বুদ্ধিবৃত্তি বা আক্‌লের শ্রেষ্ঠত্ব, ইচ্ছা ও জানা বা জ্ঞানের মধ্যে দ্বন্দ্ব, আকল্‌-নির্ভর জীবন, কুরআনে প্রজ্ঞা, নৈতিকতা ও প্রজ্ঞা, অধিকতর উপলব্ধি ও অনুধাবনের জন্য প্রচেষ্টা ও প্রজ্ঞা বোঝানোর ক্ষেত্রে ফার্সি ভাষার সহায়তা বা অবদানসহ আরও অনেক বিষয়ে কথা বলেছেন।

পবিত্র কুরআনের মধ্যে প্রজ্ঞা বা হিকমত থাকা সম্পর্কে সুরা হুদ-এর প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে: এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াত সমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত বা প্রজ্ঞাপূর্ণ অতঃপর সবিস্তারে বর্ণিত এক প্রজ্ঞাময় বা মহাজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ হতে নাজিল হয়েছে।– পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতের মত এ আয়াতেও আকল্‌-এর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। কুরআনের সমস্ত বাক্য বা বাণী আকল্‌ বা বুদ্ধিবৃত্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানির মতে আকল্-এর চেয়ে সুদৃঢ় ও উচ্চতর বিশ্বে আর কিছুই নেই। তাঁর মতে, বর্তমানে মানবজাতির সংকট হল এটা যে মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজ ইচ্ছাগুলোর পেছনে ছুটছে এবং জ্ঞানকে ধামাচাপা দিচ্ছে। আমাদের জানা ও চাওয়ার মধ্যে সব সময়ই দ্বন্দ্ব ঘটছে। আমরা আমাদের জানা বিষয় বা জ্ঞানকে প্রাধান্য না দিয়ে ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। আর মানুষ ভুল করছে এখানেই।

ধর্মীয় সাহিত্যে নৈতিকতা ও প্রজ্ঞা পাশাপাশি উচ্চারিত। হাকিম বা প্রজ্ঞাবান তাকে বলা হয় যে খোদায়ি বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলীতে বিশ্বাসী। আর এ বিষয়টিও আকল্‌ বা প্রজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। হাকিমের মধ্যে প্রজ্ঞা বা হিকমাত আছে বলেই তিনি বুঝতে পারেন, অর্থাৎ খোদা ও খোদার গুণাবলী তিনি বুঝতে পারেন।
একজন দার্শনিক কি হাকিম বা প্রজ্ঞাবান নাও হতে পারেন? –এ প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বলেছেন, না, তা হতে পারে না। ফিলসুফ বা ফিলোসফার তথা দার্শনিক একটি গ্রিক শব্দ, আর হাকিম হচ্ছে ইসলামী পরিভাষা। দুটোই সমান বা অভিন্ন। প্রজ্ঞা বা হিকমাত জানা বেশ কঠিন। ফিলো ও সফার – গ্রিক এ কথাটির অর্থ যে প্রজ্ঞা বা জ্ঞানকে ভালবাসে। আমাদের উচিত প্রজ্ঞার অনুরাগী হওয়া। অন্য কথায় অনুধাবনের অনুরাগী হওয়া উচিত আমাদের। ইবাদাতেও অনুধাবনকে গুরুত্ব দেয়া হয় এবং তাতে (আল্লাহর) নৈকট্য পাওয়া যায়।
নৈকট্য বলতে কি বোঝায়? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, উপলব্ধির নৈকট্য, অজ্ঞতার মাধ্যমে কোনো কিছুর কাছে যাওয়া যায় না।

জানার ইচ্ছা ও বোঝার ইচ্ছা অর্জনের জন্য কি করা উচিত?

এ প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বলেছেন আমাদেরকে অবশ্যই এ জন্য প্রবৃত্তির খেয়ালিপনা ও বেপরোয়া বা উদ্ধত ইচ্ছাগুলোর সঙ্গে সংগ্রাম করতে হবে। আমাদের ভেবে দেখতে হবে কোন্ কোন্ বিষয়গুলো যৌক্তিক ও বিবেক-বুদ্ধির দাবিগুলো কি কি? যদি আমাদের বুদ্ধি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী কাজকর্ম করতে হবে। সবাই বুদ্ধি-বিবেক খাটায় না। তাই এদের উদ্দেশে মহান আল্লাহ বলেছেন, শরিয়ত বা ইসলামী বিধান মেনে চল।

নতুন প্রজন্মের মানুষের অনেকেই অগোছালো চিন্তা-ভাবনার শিকার ও বুদ্ধিমত্তাকে নির্বাসনে দিয়ে রেখেছে নিজের নানা প্রয়োজন মেটানোর তাগিদে। এ অবস্থার প্রতিকার কি? জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, আকল্ ভুল করে না, কিন্তু ইচ্ছাগুলো আকল-এর ওপর বিজয়ী হয়। মানুষের যেমন আকল্‌ বা বিবেক আছে তেমনি আছে মানবীয় কুপ্রবৃত্তি যেমন, অর্থের লোভ, পদের আকর্ষণ ও এমন হাজারো বিপদ বা বিপর্যয় ইত্যাদি। এসবই হল নফসানিয়াত বা কুপ্রবৃত্তি। এসবকে যদি আকল-এর ওপর প্রাধান্য দেয়া না হয় ও না বুঝেও শরিয়ত মেনে চলে তাহলে শরিয়ত তাকে পথ দেখাবে।

শরিয়ত এক্ষেত্রে আসলে কি বলে? উত্তরে তিনি বলেছেন, শরিয়ত চলমান সঠিক বিষয়গুলো আমাদের দেখিয়ে দেয়। শরিয়ত বলে নামাজ পড়, রোজা রাখ, চুরি করো না, খারাপ কাজ করো না ইত্যাদি।
শরিয়ত মানব-জীবনের আলোকিত পথ দেখায়, তো হিকমাতের প্রতি গুরুত্ব মানুষের জন্য কি বার্তা দেয়? হিকমত হল এটাই যে তুমি যেহেতু সব কিছুর বাস্তবতা বা রহস্য বোঝ না তাই তোমাকে শরিয়ত মেনে চলতে হবে, অর্থাৎ আল্লাহ মহানবী (সা)’র মাধ্যমে বাস্তবতা বা সত্যগুলো আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছেন।

প্রথম মুসলিম দার্শনিক ফারাবি। হিকমাত ও দর্শন দিবসে আমরা তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। সেরা ইরানি দার্শনিক বা হাকিমদের দর্শন সরাসরি জানার বিষয়ে আপনার পরামর্শ কি?

জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ফারাবি ও ইবনে সিনার দর্শন নজিরবিহীন। আজকাল দর্শনের নামে কিছু অর্থহীন কথা বলা হয়। ফারাবি ও ইবনে সিনার বক্তব্যগুলো অত্যন্ত উচ্চ মানের। এসব পড়তে হবে বড় ব্যক্তিত্ব বা শিক্ষকদের কাছে। নিয়মের বাইরে গিয়ে উনাদের কথা বোঝা যাবে না।

আধুনিক যুগে মানুষ নতুন কি কি জ্ঞান যুক্ত করেছে? জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, তারা কিছু অর্থহীন জ্ঞান তৈরি করেছে! অর্থাৎ প্রভাবহীন কিছু তথ্য। তথ্য ও জ্ঞানের মধ্যে রয়েছে মৌলিক পার্থক্য। সারাদিন আমরা নানা মিডিয়া থেকে অনেক তথ্য পাচ্ছি যা মানুষের মনকে ছেয়ে রাখে, কিন্তু এসব তথ্য তাদের গভীরতা কমিয়ে দেয়। এসব মানুষকে সমৃদ্ধ ও জ্ঞানগর্ভ করে না। অতীতের দার্শনিকরা গভীরভাবে ভাবতেন ও ভাবার সময় পেতেন এবং জ্ঞানের গভীরে পৌঁছতেন। আজকাল অপ্রাসঙ্গিক অনেক তথ্য আমরা পাচ্ছি, বিশেষ করে মোবাইল ফোন মানুষের কাছে এই আপদ এনে দিয়েছে।

তাহলে আধুনিক এ বিশ্বে কি করা উচিত? জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, আমি এটা বলতে পারি না যে অবশ্যই কি কি করা উচিত। আমার পরামর্শ হল এটা যে আমরা যেন প্রাত্যহিক নানা গতানুগতিকতার শিকার না হই। আমাদের উচিত গভীর দর্শনের বইগুলো পড়া। আমি ইসলামী দর্শনের বিষয়ে একটি কোর্স বা সিরিজ লেখা লিখেছি তা পড়ুন। ইসলামী বিশ্বের দার্শনিক চিন্তাগুলো যথাযথভাবে পড়ুন। সমস্যার সম্মুখীন হলে প্রশ্ন করুন। আধুনিক যুগে টেকনিক ও শিল্পের অগ্রগতি হয়েছে কিন্তু চিন্তার অগ্রগতি হয়নি। তথ্য বেড়েছে কিন্তু প্রশান্তি কমেছে।

ফার্সি সাহিত্য দর্শন বোঝার ক্ষেত্রে অনেক সহায়ক। বিশেষ করে হাফিজ ও সাদির কবিতা ভালো করে বুঝে শুনে পড়তে পারলে অনেক কিছু জানা যায় দর্শন ও প্রজ্ঞার।

এমন কোনো বাক্য কি বলবেন দার্শনিকদের যা সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও উপদেশমূলক। জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, একটি বাক্য সবাইকে প্রশান্তি দেবে এমন কিছু আমার জানা নেই। আমাদের সবারই উচিত বাস্তবতা তথা সত্যের জন্য তৃষ্ণার্ত হওয়া। বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে হবে। আমাদের ফার্সি সাহিত্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ। কেবল একটি পয়েন্ট বা দিক বলা হবে আর তা সবাই গ্রহণ করবে বাস্তবতা এমন নয়।

সূত্রঃ পার্সটুডে

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৩৮১৬

আন্তর্জাতিক

পৃথিবীর প্রথম দেশ হিসেবে ইলন মাস্কের স্টারলিংক অচল করে দিলো ইরান

ইরানে সরকারিভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পর সেখানে স্টারলিংক ইন্টারনেট পাঠান মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তবে সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে সেই স্টারলিংক সংযোগ কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান। স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নেওয়া পদক্ষেপে দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউট আরও গভীর হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

নিউজ ডেস্ক

১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৪৩

ইরানে সরকারিভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পর সেখানে স্টারলিংক ইন্টারনেট পাঠান মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তবে সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে সেই স্টারলিংক সংযোগ কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান। স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নেওয়া পদক্ষেপে দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউট আরও গভীর হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ইরান ওয়্যারের তথ্যের বরাতে মার্কিন বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস জানায়, ইরানের ভেতরে হাজার হাজার স্টারলিংক ইউনিট চালু রয়েছে এমন দাবি শোনা গেলেও বাস্তবে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট স্যাটেলাইট সংযোগকেও গ্রাস করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে স্টারলিংকের আপলিংক ও ডাউনলিংক ট্র্যাফিকের প্রায় ত্রিশ শতাংশ ব্যাহত হয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেখা যায়, স্টারলিংক ইন্টারনেটের আশিরও বেশি শতাংশ ট্র্যাফিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, আগের ব্ল্যাকআউটগুলোর তুলনায় বর্তমানে ইরানে স্টারলিংক রিসিভারের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। তবে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরান সরকার কখনোই স্টারলিংক ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি। ফলে এই সেবাটি চালু রাখা ও ব্যবহার করা দেশটির আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্টারলিংক রিসিভার স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে জিপিএস ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে বারো দিনের যুদ্ধের পর থেকেই ইরান জিপিএস সিগন্যাল ব্যাহত করে আসছে। এর ফলে শাটডাউনগুলো অঞ্চলভেদে ভিন্নভাবে কার্যকর হচ্ছে এবং স্টারলিংক সংযোগে খণ্ডিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট দেখা যাচ্ছে।

মিয়ান গ্রুপের আমির রাশিদি টেকরাডারকে বলেন, ‘আমি গত বিশ বছর ধরে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা করছি, কিন্তু জীবনে এমন কিছু কখনো দেখিনি।’ স্টারলিংক ডেটা প্যাকেট পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তিবিদরাও জানান, স্যাটেলাইট সংযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরানে স্টারলিংকের ইন্টারনেট পরিষেবা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা সাইমন মিগলিয়ানো ফোর্বসের প্রতিবেদককে বলেন, ‘এই কিল সুইচ পদ্ধতির খরচ অত্যন্ত ভয়াবহ। ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ইরানের অর্থনীতি থেকে পনেরো লাখ ষাট হাজার ডলার খসে যাচ্ছে।’ এই তথ্য ইরানে চলমান যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণের অর্থনৈতিক প্রভাবকেও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৩৮১৬

আন্তর্জাতিক

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে আরেক মুসলিম দেশ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৫

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকা সত্ত্বেও ইউএই ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ‍সূত্র জানিয়েছে, যদিও ইউএই কোনোভাবেই এই যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তবুও দেশটি ৮০০টি হামলা মোকাবিলা করেছে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই, যারা নিজেদের নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

এর আগে শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হাইদারি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান জানিয়েছেন। তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আক্রমণগুলো ইরানের সভ্যতা ও ধর্মীয় কর্তৃত্বকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। খবর শাফাক নিউজের।

আল-হাইদারি মুসলমানদের সতর্ক করেছেন, নিজেদের ভূমি, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে এবং ইহুদি ও আমেরিকানদের অহংকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে।

শিয়া ধর্মমতে, এই ধরনের জিহাদ সাধারণত প্রতিরক্ষা ভিত্তিক এবং আক্রমণাত্মক নয়। দ্বাদশ শিয়াদের মধ্যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা একজন মারজা’ আল-তাকলিদ বা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কাছে সীমাবদ্ধ।

এর আগে ২০১৪ সালে ইরাকের শীর্ষ শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ আলি আল-সিস্তানি আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান করেছিলেন, যা পরে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসে (পিএমই) পরিণত হয়।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৩৮১৬

আন্তর্জাতিক

যদি ইরান চায়, আমরা সাহায্য করবো, ইসরায়েল কে মুছে ফেলার জন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রই যথেষ্ট : কিম জং উন

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বলেছেন, ইরান চাইলে তাদের সহায়তা করতে প্রস্তুত পিয়ংইয়ং। এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রই যথেষ্ট। তার এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই বক্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন […]

নিউজ ডেস্ক

০৩ মার্চ ২০২৬, ২০:৫১

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বলেছেন, ইরান চাইলে তাদের সহায়তা করতে প্রস্তুত পিয়ংইয়ং। এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রই যথেষ্ট। তার এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

আঞ্চলিক সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই বক্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন মন্তব্য কেবল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। ইরান ও ইসরায়েল-এর মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতার মধ্যে উত্তর কোরিয়ার এই অবস্থান নতুন কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া প্রায়ই কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান জোরালো করার চেষ্টা করে। তবে বাস্তবে সামরিক সহায়তা বা সরাসরি জড়িত হওয়ার প্রশ্নে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা, যাতে উত্তেজনা আরও না বাড়ে এবং বৃহত্তর সংঘাতে রূপ না নেয়।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৩৮১৬