সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

যুক্তির চেয়ে উচ্চতর অবস্থান নেই, সমস্ত কুরআন বুদ্ধিবৃত্তিক: ইরানি দার্শনিক

প্রখ্যাত ইরানি দার্শনিক অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বলেছেন, বর্তমানে মানবজাতির সংকট হল এটা যে মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজ ইচ্ছাগুলোর পেছনে ছুটছে এবং আকল্‌ বা বুদ্ধিবৃত্তি তথা জ্ঞানকে ধামাচাপা দিচ্ছে। বার্তা সংস্থা ইকনা জানিয়েছে, প্রজ্ঞা ও দর্শন দিবস উপলক্ষে এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বুদ্ধিবৃত্তি বা আক্‌লের শ্রেষ্ঠত্ব, ইচ্ছা ও জানা বা জ্ঞানের মধ্যে দ্বন্দ্ব, […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ নভেম্বর ২০২৪, ১২:১৭

প্রখ্যাত ইরানি দার্শনিক অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বলেছেন, বর্তমানে মানবজাতির সংকট হল এটা যে মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজ ইচ্ছাগুলোর পেছনে ছুটছে এবং আকল্‌ বা বুদ্ধিবৃত্তি তথা জ্ঞানকে ধামাচাপা দিচ্ছে।

বার্তা সংস্থা ইকনা জানিয়েছে, প্রজ্ঞা ও দর্শন দিবস উপলক্ষে এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বুদ্ধিবৃত্তি বা আক্‌লের শ্রেষ্ঠত্ব, ইচ্ছা ও জানা বা জ্ঞানের মধ্যে দ্বন্দ্ব, আকল্‌-নির্ভর জীবন, কুরআনে প্রজ্ঞা, নৈতিকতা ও প্রজ্ঞা, অধিকতর উপলব্ধি ও অনুধাবনের জন্য প্রচেষ্টা ও প্রজ্ঞা বোঝানোর ক্ষেত্রে ফার্সি ভাষার সহায়তা বা অবদানসহ আরও অনেক বিষয়ে কথা বলেছেন।

পবিত্র কুরআনের মধ্যে প্রজ্ঞা বা হিকমত থাকা সম্পর্কে সুরা হুদ-এর প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে: এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াত সমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত বা প্রজ্ঞাপূর্ণ অতঃপর সবিস্তারে বর্ণিত এক প্রজ্ঞাময় বা মহাজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ হতে নাজিল হয়েছে।– পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতের মত এ আয়াতেও আকল্‌-এর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। কুরআনের সমস্ত বাক্য বা বাণী আকল্‌ বা বুদ্ধিবৃত্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানির মতে আকল্-এর চেয়ে সুদৃঢ় ও উচ্চতর বিশ্বে আর কিছুই নেই। তাঁর মতে, বর্তমানে মানবজাতির সংকট হল এটা যে মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজ ইচ্ছাগুলোর পেছনে ছুটছে এবং জ্ঞানকে ধামাচাপা দিচ্ছে। আমাদের জানা ও চাওয়ার মধ্যে সব সময়ই দ্বন্দ্ব ঘটছে। আমরা আমাদের জানা বিষয় বা জ্ঞানকে প্রাধান্য না দিয়ে ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। আর মানুষ ভুল করছে এখানেই।

ধর্মীয় সাহিত্যে নৈতিকতা ও প্রজ্ঞা পাশাপাশি উচ্চারিত। হাকিম বা প্রজ্ঞাবান তাকে বলা হয় যে খোদায়ি বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলীতে বিশ্বাসী। আর এ বিষয়টিও আকল্‌ বা প্রজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। হাকিমের মধ্যে প্রজ্ঞা বা হিকমাত আছে বলেই তিনি বুঝতে পারেন, অর্থাৎ খোদা ও খোদার গুণাবলী তিনি বুঝতে পারেন।
একজন দার্শনিক কি হাকিম বা প্রজ্ঞাবান নাও হতে পারেন? –এ প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বলেছেন, না, তা হতে পারে না। ফিলসুফ বা ফিলোসফার তথা দার্শনিক একটি গ্রিক শব্দ, আর হাকিম হচ্ছে ইসলামী পরিভাষা। দুটোই সমান বা অভিন্ন। প্রজ্ঞা বা হিকমাত জানা বেশ কঠিন। ফিলো ও সফার – গ্রিক এ কথাটির অর্থ যে প্রজ্ঞা বা জ্ঞানকে ভালবাসে। আমাদের উচিত প্রজ্ঞার অনুরাগী হওয়া। অন্য কথায় অনুধাবনের অনুরাগী হওয়া উচিত আমাদের। ইবাদাতেও অনুধাবনকে গুরুত্ব দেয়া হয় এবং তাতে (আল্লাহর) নৈকট্য পাওয়া যায়।
নৈকট্য বলতে কি বোঝায়? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, উপলব্ধির নৈকট্য, অজ্ঞতার মাধ্যমে কোনো কিছুর কাছে যাওয়া যায় না।

জানার ইচ্ছা ও বোঝার ইচ্ছা অর্জনের জন্য কি করা উচিত?

এ প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক গোলাম হোসেইন দিইনানি বলেছেন আমাদেরকে অবশ্যই এ জন্য প্রবৃত্তির খেয়ালিপনা ও বেপরোয়া বা উদ্ধত ইচ্ছাগুলোর সঙ্গে সংগ্রাম করতে হবে। আমাদের ভেবে দেখতে হবে কোন্ কোন্ বিষয়গুলো যৌক্তিক ও বিবেক-বুদ্ধির দাবিগুলো কি কি? যদি আমাদের বুদ্ধি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী কাজকর্ম করতে হবে। সবাই বুদ্ধি-বিবেক খাটায় না। তাই এদের উদ্দেশে মহান আল্লাহ বলেছেন, শরিয়ত বা ইসলামী বিধান মেনে চল।

নতুন প্রজন্মের মানুষের অনেকেই অগোছালো চিন্তা-ভাবনার শিকার ও বুদ্ধিমত্তাকে নির্বাসনে দিয়ে রেখেছে নিজের নানা প্রয়োজন মেটানোর তাগিদে। এ অবস্থার প্রতিকার কি? জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, আকল্ ভুল করে না, কিন্তু ইচ্ছাগুলো আকল-এর ওপর বিজয়ী হয়। মানুষের যেমন আকল্‌ বা বিবেক আছে তেমনি আছে মানবীয় কুপ্রবৃত্তি যেমন, অর্থের লোভ, পদের আকর্ষণ ও এমন হাজারো বিপদ বা বিপর্যয় ইত্যাদি। এসবই হল নফসানিয়াত বা কুপ্রবৃত্তি। এসবকে যদি আকল-এর ওপর প্রাধান্য দেয়া না হয় ও না বুঝেও শরিয়ত মেনে চলে তাহলে শরিয়ত তাকে পথ দেখাবে।

শরিয়ত এক্ষেত্রে আসলে কি বলে? উত্তরে তিনি বলেছেন, শরিয়ত চলমান সঠিক বিষয়গুলো আমাদের দেখিয়ে দেয়। শরিয়ত বলে নামাজ পড়, রোজা রাখ, চুরি করো না, খারাপ কাজ করো না ইত্যাদি।
শরিয়ত মানব-জীবনের আলোকিত পথ দেখায়, তো হিকমাতের প্রতি গুরুত্ব মানুষের জন্য কি বার্তা দেয়? হিকমত হল এটাই যে তুমি যেহেতু সব কিছুর বাস্তবতা বা রহস্য বোঝ না তাই তোমাকে শরিয়ত মেনে চলতে হবে, অর্থাৎ আল্লাহ মহানবী (সা)’র মাধ্যমে বাস্তবতা বা সত্যগুলো আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছেন।

প্রথম মুসলিম দার্শনিক ফারাবি। হিকমাত ও দর্শন দিবসে আমরা তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। সেরা ইরানি দার্শনিক বা হাকিমদের দর্শন সরাসরি জানার বিষয়ে আপনার পরামর্শ কি?

জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ফারাবি ও ইবনে সিনার দর্শন নজিরবিহীন। আজকাল দর্শনের নামে কিছু অর্থহীন কথা বলা হয়। ফারাবি ও ইবনে সিনার বক্তব্যগুলো অত্যন্ত উচ্চ মানের। এসব পড়তে হবে বড় ব্যক্তিত্ব বা শিক্ষকদের কাছে। নিয়মের বাইরে গিয়ে উনাদের কথা বোঝা যাবে না।

আধুনিক যুগে মানুষ নতুন কি কি জ্ঞান যুক্ত করেছে? জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, তারা কিছু অর্থহীন জ্ঞান তৈরি করেছে! অর্থাৎ প্রভাবহীন কিছু তথ্য। তথ্য ও জ্ঞানের মধ্যে রয়েছে মৌলিক পার্থক্য। সারাদিন আমরা নানা মিডিয়া থেকে অনেক তথ্য পাচ্ছি যা মানুষের মনকে ছেয়ে রাখে, কিন্তু এসব তথ্য তাদের গভীরতা কমিয়ে দেয়। এসব মানুষকে সমৃদ্ধ ও জ্ঞানগর্ভ করে না। অতীতের দার্শনিকরা গভীরভাবে ভাবতেন ও ভাবার সময় পেতেন এবং জ্ঞানের গভীরে পৌঁছতেন। আজকাল অপ্রাসঙ্গিক অনেক তথ্য আমরা পাচ্ছি, বিশেষ করে মোবাইল ফোন মানুষের কাছে এই আপদ এনে দিয়েছে।

তাহলে আধুনিক এ বিশ্বে কি করা উচিত? জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, আমি এটা বলতে পারি না যে অবশ্যই কি কি করা উচিত। আমার পরামর্শ হল এটা যে আমরা যেন প্রাত্যহিক নানা গতানুগতিকতার শিকার না হই। আমাদের উচিত গভীর দর্শনের বইগুলো পড়া। আমি ইসলামী দর্শনের বিষয়ে একটি কোর্স বা সিরিজ লেখা লিখেছি তা পড়ুন। ইসলামী বিশ্বের দার্শনিক চিন্তাগুলো যথাযথভাবে পড়ুন। সমস্যার সম্মুখীন হলে প্রশ্ন করুন। আধুনিক যুগে টেকনিক ও শিল্পের অগ্রগতি হয়েছে কিন্তু চিন্তার অগ্রগতি হয়নি। তথ্য বেড়েছে কিন্তু প্রশান্তি কমেছে।

ফার্সি সাহিত্য দর্শন বোঝার ক্ষেত্রে অনেক সহায়ক। বিশেষ করে হাফিজ ও সাদির কবিতা ভালো করে বুঝে শুনে পড়তে পারলে অনেক কিছু জানা যায় দর্শন ও প্রজ্ঞার।

এমন কোনো বাক্য কি বলবেন দার্শনিকদের যা সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও উপদেশমূলক। জনাব দিইনানি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, একটি বাক্য সবাইকে প্রশান্তি দেবে এমন কিছু আমার জানা নেই। আমাদের সবারই উচিত বাস্তবতা তথা সত্যের জন্য তৃষ্ণার্ত হওয়া। বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে হবে। আমাদের ফার্সি সাহিত্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ। কেবল একটি পয়েন্ট বা দিক বলা হবে আর তা সবাই গ্রহণ করবে বাস্তবতা এমন নয়।

সূত্রঃ পার্সটুডে

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৩০৩৮

আন্তর্জাতিক

জাকির নায়েক ঢাকায় পা রাখলেই যেন ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়: রনধীর জয়সওয়াল

আসছে নভেম্বরে ঢাকায় আসছেন আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত ইসলামী বক্তা ডা. জাকির নায়েক। তবে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় পা রাখলেই তাঁকে যেন ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়—বাংলাদেশের কাছে এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে ভারত। বিষয়টি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) পক্ষ থেকে ভারতীয় গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিউজ ডেস্ক

৩১ অক্টোবর ২০২৫, ১৩:০৮

আসছে নভেম্বরে ঢাকায় আসছেন আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত ইসলামী বক্তা ডা. জাকির নায়েক। তবে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় পা রাখলেই তাঁকে যেন ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়—বাংলাদেশের কাছে এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে ভারত। বিষয়টি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) পক্ষ থেকে ভারতীয় গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ৩০ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বলেন,

“জাকির নায়েক একজন পলাতক আসামি। তিনি ভারতে ওয়ান্টেড। আমরা আশা করি, তিনি যেখানেই যান না কেন, সংশ্লিষ্ট দেশ তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এবং আমাদের নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো বিবেচনায় রাখবে।”

ডা. জাকির নায়েক ২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত ভারতে অবস্থান করতেন। বিভিন্ন ইসলামী আলোচনায় অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। তবে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে “ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচার” এবং একাধিক অর্থপাচারের মামলা হয়। একইসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় তাঁর নিয়ন্ত্রিত ইসলামিক চ্যানেল “পিস টিভি”-র সম্প্রচার।

এসব ঘটনার পর ৬০ বছর বয়সি এই ইসলামী বক্তা ২০১৬ সালে ভারত ছেড়ে মালয়েশিয়ায় চলে যান এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পান। ভারতে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি একাধিকবার বলেছেন,

“ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আমি ভারতে ফিরব না।”

আগামী ২৮ ও ২৯ নভেম্বর ডা. জাকির নায়েক ঢাকায় একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। স্পার্ক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানটি আগারগাঁও এলাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

২০১৬ সালে ঢাকার হলি আর্টিজান হামলার পর অন্তত দুই হামলাকারী “জাকির নায়েকের বক্তৃতা থেকে অনুপ্রাণিত” ছিল—এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাঁর বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

তবে শেখ হাসিনার পতনের পর সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে এবার ঢাকায় আসছেন ডা. জাকির নায়েক। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিনি ঢাকায় এলেই তাঁকে যেন ভারতের হাতে হস্তান্তর করা হয়—এমনটাই তাদের প্রত্যাশা।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৩০৩৮

আন্তর্জাতিক

ইসরাইলি আটক থেকে মুক্তির পর জামায়াত থেকে পদত্যাগ করলেন মুশতাক

পাকিস্তানের সাবেক সিনেটর মুশতাক আহমদ ঘোষণা করেছেন, তিনি জামায়াত-ই-ইসলামি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে দলের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা মনোমালিন্য নেই। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে জিও নিউজ। ইসরাইলি হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়ে পাকিস্তানে ফেরার পর বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মুশতাক আহমদ বলেন, তিনি […]

ইসরাইলি আটক থেকে মুক্তির পর জামায়াত থেকে পদত্যাগ করলেন মুশতাক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১০ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৪৪

পাকিস্তানের সাবেক সিনেটর মুশতাক আহমদ ঘোষণা করেছেন, তিনি জামায়াত-ই-ইসলামি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে দলের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা মনোমালিন্য নেই।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে জিও নিউজ। ইসরাইলি হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়ে পাকিস্তানে ফেরার পর বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মুশতাক আহমদ বলেন, তিনি মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক অধিকারের পক্ষে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য ‘নিজস্ব রাজনৈতিক পরিসর’ তৈরি করতে চান।

মুশতাক জানান, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত-ই-ইসলামি থেকে পদত্যাগ করেছি। ১৯ সেপ্টেম্বর গ্লোবাল সমুদ ফ্লোটিলায় যাত্রাপথে থাকাকালীন আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’ তবে দলটি এখনো তার পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দলের ভেতরে নীতিনিষ্ঠ অবস্থান ও নাগরিক স্বাধীনতার পক্ষে সরব ভূমিকায় পরিচিত এই নেতা বলেন, পদত্যাগ তার জীবনের এক আবেগঘন মুহূর্ত ছিল। ‘সেদিন রাতে আমি কেঁদেছিলাম, যেমন কেঁদেছিলাম আমার মা মারা যাওয়ার রাতে,’ বলেন মুশতাক।

তিনি আরও বলেন, এখনই তিনি কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন না। তার মতে, ‘রাজনৈতিক সংগঠনের কাঠামোর ভেতরে অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে, কখনও কখনও স্বাধীনভাবে কাজ করাই প্রয়োজন।’ ‘আমি মানবাধিকার, গণতন্ত্র, স্বাধীন গণমাধ্যম, ড. আফিয়া সিদ্দিকীর মুক্তি, ফিলিস্তিনের ন্যায়বিচার এবং পাকিস্তানের প্রদেশগুলোর সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে চাই,’ বলেন তিনি।

মুশতাক স্বীকার করেন, জামায়াতের ভেতরে গত কয়েক বছরে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য ছিল, তবে তা ব্যক্তিগত কোনো বিরোধে পরিণত হয়নি। ‘দলের ভেতরে কিছু বিষয়ে ভিন্নমত ছিল, কিন্তু আমার কারও সঙ্গে কোনো রাগ বা শত্রুতা নেই,’ বলেন তিনি।

জামায়াতের আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হাফিজ নাঈমুর রহমান একজন নেতা; তাঁর সঙ্গে আমার কোনো মতবিরোধ নেই। আমি চাই, আমার আর জামায়াতের মধ্যে কোনো সমস্যা না থাকুক, আর আমার কারণে দলটিরও কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হোক।’

পদত্যাগের পাশাপাশি মুশতাক আহমদ এক নতুন জনআন্দোলন গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান। তিনি বলেন, ‘আমি সারা পাকিস্তানে এক লাখ ফিলিস্তিন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছি, যাতে সাধারণ মানুষ ফিলিস্তিনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।’

ইসরাইলি বাহিনীকে ‘কাগুজে বাঘ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, গ্লোবাল সমুদ ফ্লোটিলায় যাত্রা ও পরবর্তীতে ইসরাইলে আটক অবস্থায় তিনি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা ছিল এক কঠিন ধৈর্য ও বিশ্বাসের পরীক্ষা।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিলম্বিত প্রতিক্রিয়ারও সমালোচনা করে বলেন, ‘গাজায় যুদ্ধবিরতি যদি দুই বছর আগে হতো, সেটাই হতো প্রকৃত সাফল্য। এখনকার এই ফলাফলের কৃতিত্ব হামাসেরই, কারণ তাদের সংগ্রাম অদম্য।’

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৩০৩৮

আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহুর হুমকি, কাতারের পর এবার চীনে হামলা করবে ইসরাইল

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মাঝেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবার সরাসরি চীনকে জড়িয়েছেন। কাতারে হামলার পর এবার চীনের বিরুদ্ধেও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নেতাদের কাছে নেতানিয়াহু চীনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলে একটি সতর্কবার্তা দেন। নেতানিয়াহুর অভিযোগ ও কৌশলগত হুমকি নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন যে, চীনের সামরিক ও কূটনৈতিক […]

নেতানিয়াহুর হুমকি, কাতারের পর এবার চীনে হামলা করবে ইসরাইল

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৩২

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মাঝেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবার সরাসরি চীনকে জড়িয়েছেন। কাতারে হামলার পর এবার চীনের বিরুদ্ধেও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নেতাদের কাছে নেতানিয়াহু চীনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলে একটি সতর্কবার্তা দেন।

নেতানিয়াহুর অভিযোগ ও কৌশলগত হুমকি

নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন যে, চীনের সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে এবং এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, চীন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আক্রমণ চালাচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অর্থনৈতিক মঞ্চে ইসরায়েলের সমর্থন কমানোর চেষ্টা করছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “ইরান যেমন আঞ্চলিক মিত্রদের ব্যবহার করে ইসরায়েলকে ঘিরে ফেলতে চেয়েছিল, ঠিক তেমনি চীন তথ্য ও রাজনৈতিক যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরায়েলকে ঘিরে ফেলছে।” নেতানিয়াহু মনে করেন, এটি শুধু তথ্যযুদ্ধ নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত কৌশল, যার লক্ষ্য ইসরায়েলের মিত্রদের দূরে সরিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি করা।

সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা

বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর এই হুশিয়ারি কেবল কূটনীতি বা বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। চীনের সঙ্গে সামরিক সংঘাতও ইসরায়েলের সম্ভাব্য পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। কাতারে হামলার পর চীনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা এখন ইসরায়েলের নিরাপত্তা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নেতানিয়াহু আগে থেকেই চীনের কৌশলকে ইরানের আঞ্চলিক অবরোধ কৌশলের মতো উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করছেন, চীন তার সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক প্রভাব ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ত্রাণ ও সমর্থন কমানোর চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহু চীনের সম্ভাব্য প্রভাবকে অবমূল্যায়ন করতে চান না, বরং তাৎক্ষণিক এবং শক্তিশালী প্রতিরোধ তৈরি করতে চাইছেন। চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার মোকাবিলায় ইসরায়েল কৌশলগত হুমকি হিসেবে সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও ঝুঁকি

যদি ইসরায়েল চীনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়, তবে এর প্রভাব শুধু চীনের ওপরই পড়বে না, বরং পুরো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অচল করে দিতে পারে। যুদ্ধ বিশ্লেষকদের ধারণা, চীনের সামরিক শক্তির কাছে ইসরায়েল কোনোভাবেই অবস্থান করতে পারবে না।

চীন-ইসরায়েল সংঘাত বিশ্বের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় সংকটের সূচনা করতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল এবং বহুগুণ বিস্তৃত করার সম্ভাবনা রাখে। আন্তর্জাতিক মহল এখন এই নতুন ও সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৩০৩৮