সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সহায়তা ও পরামর্শ দিতে চীনের চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছেছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দলটিকে স্বাগত জানান সাবেক সচিব আব্দুল খালেক। সেখান থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় তাদের হাসপাতালে আনা হয়।
এর আগে সন্ধ্যার পর খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এসময় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি চারতলায় গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে কথা বলেন।
দুপুরে হাসপাতালে যান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার ভাষায়, সিসিইউ-এ প্রবেশের সময় খালেদা জিয়া ইশারায় সালামের জবাব দেন। খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য জানান, খালেদা জিয়ার অবস্থা এখন ‘স্থিতিশীল’ হলেও এটিকে আশানুরূপ উন্নতি বলা যাচ্ছে না। তিনি কিছুটা সাড়া দিচ্ছেন, তবে বিভিন্ন প্যারামিটার ওঠানামা করছে।
চিকিৎসা–পর্যালোচনার জন্য প্রতিরাতে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দেশি–বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে বোর্ড বৈঠক করে। লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞরাও ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকেন। সেই বৈঠকগুলোতে নিয়মিত নতুন পরীক্ষা ও চিকিৎসা পদ্ধতি ঠিক করা হয়।
যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রিচার্ড বিল বুধবার সকালে ঢাকায় পৌঁছে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। তাঁর যুক্ত হওয়ার বিষয়টি আগেই নিশ্চিত করেছিলেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক জাহিদ হোসেন।
গত ২৩ নভেম্বর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলে প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে তাঁকে ভর্তি রাখা হয়। ২৭ নভেম্বর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। দেশি–বিদেশি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে চীনের ১০ সদস্যের একটি চিকিৎসক দলও কাজ করছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ চিকিৎসা সহায়তার আগ্রহ জানিয়েছে।
উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি গত জানুয়ারিতে লন্ডনে গিয়েছিলেন এবং প্রায় চার মাস সেখানে থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। দেশে ফেরার পর ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। পরীক্ষায় ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।