নূর আলম,দুর্গাপুর(নেত্রকোণা)প্রতিনিধি
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে হাঁস-মুরগির ঘর থেকে উদ্ধার করা বিরল প্রজাতির মেছো বিড়ালের দুই ছানাকে পুনরায় বনে অবমুক্ত করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং’ এবং বন বিভাগ। সোমবার রাতে উপজেলার গহীন বনে জলাশয়ের ধারে ছানাগুলোকে অবমুক্ত করা হয়।
এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুর পৌর শহরের পশ্চিম বালিকান্দি গ্রামের একটি মুরগির খোয়া থেকে স্থানীয় বাসিন্দা বিএম শাহীন দুটি অচেনা বাচ্চা দেখতে পেয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের খবর দেন।
পরে সংগঠনের সদস্যরা গিয়ে এগুলোকে মেছো বিড়ালের ছানা হিসেবে শনাক্ত করেন এবং প্রাথমিক পরিচর্যার জন্য দুর্গাপুর বন বিভাগের কার্যালয়ে নিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা বিএম শাহীন জানান, কয়েকদিন ধরে তার হাঁস-মুরগির ঘর থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল। ভেবেছিলেন শিয়ালের কাজ। রবিবার ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে দুটি ভিন্ন প্রজাতির বাচ্চা দেখে সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে দেখেন, ছানাগুলোর নখ বড় এবং শরীরে কালো দাগ আছে। পরে স্বেচ্ছাসেবীদের জানালে তারা উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং-এর সভাপতি রিফাত আহমেদ রাসেল জানান, জিআই তারে পেঁচিয়ে থাকার কারণে ছানাগুলো নড়াচড়া করতে পারছিল না। উদ্ধার করে পরিচর্যার পর তাদের সুস্থ অবস্থায় বনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, সংগঠনটি এর আগে অজগর, লজ্জাবতী বানর, বনরুইসহ ৫৯টির বেশি বন্যপ্রাণী রেসকিউ করেছে। চলতি বছরের ১৩ জুনও আরও দুটি মেছো বিড়ালের ছানা উদ্ধার করা হয়।
দুর্গাপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মজনু প্রামাণিক বলেন, “ছানাগুলো মোটামুটি বড় হওয়ায় নিজেরাই শিকার করে খাবার সংগ্রহ করতে পারবে। মেছো বিড়াল নিশাচর হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে রাতে এগুলোকে অবমুক্ত করা হয়েছে।”
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিক বলেন, মেছো বিড়াল একটি বিরল প্রজাতির প্রাণী, যা হাওর, জলাশয় ও পুকুর এলাকায় বসবাস করে। এদের প্রধান খাবার মাছ। মাঝে মাঝে খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, “মেছো বিড়াল পরিবেশের জন্য উপকারী। সাপ, ইঁদুরসহ ক্ষতিকর প্রাণী খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু শরীরে দাগ থাকায় অনেক সময় চিতা বা বাঘ ভেবে মানুষ এদের হত্যা করে। আমরা সবাইকে সচেতন হতে আহ্বান জানাচ্ছি।”