বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গত তিন দিন ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, মেডিকেল বোর্ডের সবুজ সংকেত পেলেই তাকে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শের ভিত্তিতে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। দেশের বাইরে থাকা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং যৌথ আলোচনার ভিত্তিতেই চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় করছেন তারেক রহমানের স্ত্রী ও খালেদা জিয়ার চিকিৎসক ডা. জোবায়দা রহমান।
তিনি আরও বলেন, “নেত্রী চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন এবং বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী সব চিকিৎসা চলছে।” একইসঙ্গে হাসপাতালের সামনে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অযথা ভিড় না করে নিজ নিজ জায়গা থেকে দোয়া করার অনুরোধ জানান তিনি।
এর আগে বিকেলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা ‘ফ্লাই করার মতো’ নয়। তিনি বলেন, “শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে বিদেশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনও এক ফেসবুক পোস্টে জানান, খালেদা জিয়ার অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই তাকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসজ্জিত একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।