আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়িয়ে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। নীলফামারীর সৈয়দপুর সেনানিবাসে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স (ইএমই) কোরের বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। গতকাল মঙ্গলবার ইএমই সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের মেকানিক্যাল ভবনে অনুষ্ঠিত হয় এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সামনে নিত্যনতুন নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইএমই কোরের সদস্যদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতা অর্জন সময়ের দাবি। তিনি ইএমই কোরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও দেশের জন্য এদের অবদান গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যই দেশের সুরক্ষা, প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ ও সামরিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই অপারেশনাল কার্যক্রমের পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনা, মেরামত ও ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে হবে। সেনাপ্রধান আশা প্রকাশ করেন যে, ইএমই কোরের প্রতিটি সদস্য আগামী দিনে দেশসেবায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
অনুষ্ঠানে পৌঁছালে সেনাপ্রধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জিওসি আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড; ইএমই কোরের কর্নেল কমান্ড্যান্ট ও চেয়ারম্যান আরইবি; মাস্টার জেনারেল অব দি অর্ডন্যান্স; অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল; জিওসি ৬৬ পদাতিক ডিভিশন ও রংপুর এরিয়ার এরিয়া কমান্ডার; সেনাসদর ও রংপুর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা; ইএমই সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের কমান্ড্যান্ট এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত ইএমই ইউনিটের অধিনায়করা। এছাড়া স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনী প্রধানের এই আহ্বান ইঙ্গিত করে যে, প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ পরিস্থিতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও আধুনিক সামরিক সরঞ্জামের যুগে ইএমই কোরের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই অত্যাধুনিক সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও প্রস্তুত একটি পেশাদার বাহিনী গড়ে তুলতে সেনাবাহিনীর এই দিকনির্দেশনা সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।