বিএনপি নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা ও ইতিহাস রক্ষায় তিনি এখনো সমানভাবে দৃঢ় এবং প্রয়োজনে আবারও লড়াইতে নামতে প্রস্তুত। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করতে দেব না। সাবধান—এখনো জীবিত আছি। প্রয়োজনে আরেকটা যুদ্ধ হবে, তবুও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অবমাননা করতে দেব না।”
সম্প্রতি কিশোরগঞ্জে স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে নিজের অতীত অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে ফজলুর রহমান বলেন, “একসময় কয়েকজন মৌলবী এখানে এসেছিল। তখন আমির হামজা আমাকে নিয়ে বলেছিল—একটা পাগল বের হয়েছে, নাম ফজু পাগলা। সেই থেকেই অনেকে আমাকে ফজু পাগলা বলত।”
নিজেকে ‘পাগলা’ উপাধিতে ডাকার প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত পাগলা মসজিদের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে একটা পাগলা মসজিদ আছে—কিশোরগঞ্জের সেই পাগলা মসজিদ।
সেখানে মানুষ মাসে কোটি কোটি টাকা দান করে। বায়তুল মোকাররমেও এত টাকা দান পড়ে না। তাহলে বুঝুন, পাগলা মসজিদের দাম কত! সেই কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ আর আমি কিশোরগঞ্জের ফজু পাগলা—এখন আর কেউ পাগলা বলে না।”
ফজলুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন। তাই স্বাধীনতার চেতনা ও ইতিহাস বিকৃতির যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করা হবে। “এ দেশ আমরা যুদ্ধ করে অর্জন করেছি। এই দেশের মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে কেউ খেলতে চাইলে আমরা চুপ করে থাকবো না,” যোগ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আঘাত করার অপচেষ্টা বেড়েছে। কিন্তু দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এখনো বেঁচে আছেন, এবং যেকোনো অপমানের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার হবেন।