জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, কোনো বিচার শুরু হওয়ার আগেই শর্ত আরোপ করা হলে সেই বিচার নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া বা বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক শর্তের সঙ্গে যুক্ত করা কোনোদিনই ভালো ফল বয়ে আনে না। তার মতে, শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরে দেশের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা হলেও বিচারটি জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশারই প্রতিফলন।
তিনি বলেন, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণ যেমন রয়েছে, তেমনি হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ সমালোচক হিসেবে পরিচিত ডেভিড বার্গম্যানও তার সাম্প্রতিক লেখায় উল্লেখ করেছেন—‘প্রসিকিউশনের হাতে শক্ত প্রমাণ ছিল।’ এই মন্তব্যই নির্দেশ করে যে, বিচারটি কেবল রাজনৈতিক বিবেচনায় হয়নি; বরং প্রমাণ-নির্ভর প্রক্রিয়াই মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, নির্বাচন ঘিরে বিচার দৃশ্যমানতা কোনো একক শর্ত নয়। বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও নানা শর্ত—গণভোটের দাবি, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব। তিনি মনে করেন, এসব শর্ত পূরণ না হলে জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেবে কি না—তা অনিশ্চিত।
তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে বাধাগ্রস্ত নির্বাচন হলে এতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে আওয়ামী লীগ। কারণ, বিভক্ত রাজনৈতিক অবস্থায় ভোট প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হলে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর ঐক্য নষ্ট হয়।