পলাতক ও দণ্ডিত আসামিদের বক্তব্য–বিবৃতি ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার বন্ধে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (এনসিএসএ)–র বরাত দিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বিভিন্ন ডিজিটাল ও ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। এসব কনটেন্টের মাধ্যমে ঘৃণামূলক ও জাতিগত বিদ্বেষমূলক বার্তা ছড়ানো হচ্ছে, যা দেশের শান্তি–শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করছে এবং সহিংসতার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
এনসিএসএ জানিয়েছে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ১৭ নভেম্বর ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পরও শেখ হাসিনার বিভিন্ন বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। অথচ তিনি বর্তমানে ভারতে আশ্রয় নেওয়া অবস্থায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি; তার বক্তব্য প্রচার করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ হতে পারে।
বিবৃতিতে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫–এর একাধিক ধারা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দেশের বাইরে বসে অপরাধ সংঘটন করলেও বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ (ধারা ৪), রাষ্ট্রের অখণ্ডতা–নিরাপত্তা ক্ষুণ্নকারী কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতা (ধারা ৮), এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচারে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান (ধারা ২৬)।
এনসিএসএ বলছে, কিছু কনটেন্টে সরাসরি অরাজকতা, অগ্নিসন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধে উসকানির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মহাপরিচালকের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবে এবং বিটিআরসিকে কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের অনুরোধ জানানো হবে।
বিবৃতির শেষে সরকার সব পক্ষকে সতর্ক করে জানায়—দণ্ডিত ও পলাতক আসামিদের বক্তব্য প্রচার অব্যাহত থাকলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।