জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডাদেশকে স্বাগত জানালেও, রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে রাজি নন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর।
সোমবার সন্ধ্যায় গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
নূর বলেন, “এই রায়কে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমরা সম্পূর্ণ খুশি নই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সাধারণ ছাত্র–জনতার নিরাপত্তা এই রায় কার্যকরের ওপরই নির্ভর করছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যেই ফ্যাসিস্ট হাসিনার রায় কার্যকর করতে হবে।”
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তবে এটিকে এখনো “আংশিক রায়” হিসেবে দেখছেন তারা। তার ভাষায়, শুধুমাত্র হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিলেই চলবে না; বরং যারা এই হত্যাকাণ্ডে সমানভাবে জড়িত ছিল, তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
নূর বলেন, “দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং তাদের প্রধান সহযোগী জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করতে হবে। প্রতিটি আওয়ামী সন্ত্রাসীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারতের সঙ্গে বন্দী বিনিময় চুক্তি রয়েছে, যা ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, আদালতের রায় ভবিষ্যতের স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা। তবে তিনি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দেওয়া পাঁচ বছরের লঘুদণ্ডের সমালোচনা করেন। তার দাবি, “যার নির্দেশে গুলি হয়েছে, তাকে মাত্র পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া ন্যায়বিচার নয়।”
সংবাদ সম্মেলন শেষে মিষ্টি বিতরণ করে রায়ের প্রতি প্রতীকী সন্তুষ্টি প্রকাশ করে গণঅধিকার পরিষনের নেতারা।