জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্য নাহিদ বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণায় তারা সন্তুষ্ট হলেও প্রকৃত স্বস্তি আসবে রায় কার্যকর হলে। সোমবার বিকেল ৩টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ বলেন, “আমরা আজ রায় পেয়েছি, কিন্তু শুধু রায় পেলেই শান্তি আসে না। খুনি শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকর করা হলে তবেই শহীদ পরিবারগুলো প্রকৃত ন্যায়ের স্বাদ পাবে। আমাদের দাবি—এ রায় যেন যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করা হয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার নির্দেশেই জুলাই–আগস্টের আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার করে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়, যেখানে দেড় হাজারের বেশি নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায় এবং হাজারো মানুষ আহত হয়। “একজন রাষ্ট্রপ্রধান হয়েও সে যা করেছে, তা কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। তাই মৃত্যুদণ্ডই তার প্রাপ্য শাস্তি,” বলেন নাহিদ।
তিনি আরও জানান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও সমানভাবে এই হত্যাযজ্ঞের জন্য দায়ী। “খুনি কামালের রায় কার্যকর হওয়া উচিত। আর আইজিপি মামুনকে মাত্র পাঁচ বছর দেওয়া হয়েছে—এটা শহীদ পরিবারদের কাছে অন্যায় মনে হয়েছে।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার দুপুরে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণা করে। মামুনের স্বীকারোক্তির কারণে তার সাজা কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়।
নাহিদের দাবি, শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। “হত্যাকারীদের বিচার শুরু হয়েছে, কিন্তু শেষ হয়নি। রায় কার্যকর না হলে বিচার প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকবে। আমরা চাই—যত দ্রুত সম্ভব খুনি হাসিনার ফাঁসি কার্যকর করা হোক।”