জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার দিনটিই ছিল তার ৫৮তম বিয়েবার্ষিকী—যে দিনে সুখের স্মৃতি থাকার কথা, সেদিনই জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ পেলেন দেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী এই নারী।
সোমবার দুপুরে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
সরকারি নথি ও সংবাদমাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালে শেখ মুজিব কারাবন্দী অবস্থায় মায়ের তত্ত্বাবধানে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই সন্তান—সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে পাঁচবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন শেখ হাসিনা। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ক্ষমতায় এলেও শিক্ষার্থী–জনতার টানা আন্দোলনের মুখে সে বছরের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। কোটা সংস্কার আন্দোলন দমন করতে গিয়ে পুলিশের গুলি, হামলা এবং দলীয় অঙ্গসংগঠনের সহিংসতায় জুলাই-আগস্টে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, যা পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
মামলার তদন্তে উঠে আসে—২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে দেড় হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং ৩০ হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছিল। এ মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়: উসকানিমূলক ভাষণ, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে হত্যা, রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।
গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আদালতে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়ে শেখ হাসিনার নির্দেশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার স্বীকারোক্তি, তদন্ত প্রতিবেদন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার পর ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়।