আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণায় সর্বোচ্চ ঘণ্টাখানেক সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বিবিসিকে জানান, মামলার গুরুত্ব ও আনা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার পর ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মামলার রায় পড়া শুরু করেন। মোট ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায় ছয় ভাগে পড়ে শোনানো হচ্ছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। মামলার তিন আসামির মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক রয়েছেন। একমাত্র হাজিরা দেওয়া আসামি পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বর্তমানে প্রায় বছরখানেক ধরে কারাগারে আছেন এবং তিনি এই মামলার ‘রাজসাক্ষী’।
এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল এলাকা ও সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে কয়েক স্তরের কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, বিজিবি এবং সেনাবাহিনীর বিশেষ দল। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে রোববার সন্ধ্যা থেকেই দোয়েল চত্বর হয়ে শিক্ষাভবনমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশও সীমিত করা হয়েছে। আদালত ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের ভিড় বাড়তে থাকে রায় পড়া শুরুর পর থেকেই।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, “মামলার অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। তাই রায় পড়তে কিছুটা সময় লাগবে। সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা ধরে রায় ঘোষণা সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশা করছি।”
বহুল আলোচিত এই মামলার রায় দেখতে বিটিভি, রয়টার্স এবং ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার চলছে, আর সারা দেশের মানুষ অপেক্ষা করছে রায়ের চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য।