বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এক ব্যক্তিকে ধমক দেওয়ার ১১ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিও নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করায় ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের এক নেতা পদ হারিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তার এই কাজকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করেছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানায়।
পদ হারানো ওই নেতার নাম খাইরুল ইসলাম ওরফে রোমান (৩২)। তিনি ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচনে ভিপি পদে প্রার্থী হয়েছিলেন এবং পরাজিত হন। ভাঙ্গা উপজেলার এই তরুণ নেতা সম্প্রতি বৃহত্তর ফরিদপুরের বিভিন্ন জেলার খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক পরীক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে আলোচনায় আসেন।
খাইরুলকে বহিষ্কারের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক (সহ–সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ফরিদপুর জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম রোমানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের খাইরুল ইসলামের সঙ্গে কোনো রূপ সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় খাইরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের মহাসচিব এক ব্যক্তিকে ধমক দিয়েছেন। আমি রোববার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে ওই ভিডিওটি আমার ফেসবুকে শেয়ার করেছিলাম—এটাই আমার অপরাধ। রাজনীতিতে সহনশীলতা ও পরম সহিষ্ণুতার বিকল্প নেই। ওই ব্যক্তি বা কর্মীও তো আমাদের ভোট দেন। তাদের প্রতি সহনশীল থাকা আমাদের জন্য জরুরি।”
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি জনাকীর্ণ ভবনের ভেতরে মির্জা ফখরুল কালো পাঞ্জাবি পরে হাঁটছিলেন। আশপাশে অনেকে ছিলেন। তখন একজন ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করেন, “আমাকে চিনছেন নাকি?” মুহূর্তের মধ্যে মির্জা ফখরুল তাকে তিরস্কার করেন এবং ধমক দেন।