অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অতিরিক্ত নমনীয়তার সুযোগ নিয়ে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও তার দোসররা গর্ত থেকে বাংলাদশের বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে ছাত্রশিবিরের অবস্থান কর্মসূচির সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আজই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হবে। কিন্তু তার আগেই আওয়ামী লীগ ঢাকা লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যা সরকারবিরোধী দলগুলো ‘উসকানি ও বিশৃঙ্খলার চেষ্টা’ হিসেবে দেখছে। এই পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য, টিএসসি, শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাদিক কায়েম বলেন,
“হাসিনা ভারত থেকে ভিডিও পাঠাইছে নামানোর জন্য। বলে—আপা আইতেসে! আমরা খুঁজতেছি, গর্ত থেকে কিছু বের হয়েছে। ছাত্র–জনতা খুনি হাসিনার দোসরদের যেখানেই পাবে, লাল করে দেবে। এদের বাংলাদেশের রাজনীতির অধিকার নাই।”
তিনি আরও বলেন, দেশের সব রাজনৈতিক দল এখন আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বিএনপি–জামায়াত–ছাত্রশিবির ইতোমধ্যেই যৌথ কর্মসূচিতে মাঠে রয়েছে। বামপন্থী দলগুলোকেও একই অবস্থানে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান ডাকসু ভিপি।
সাদিক কায়েম বলেন, “জুলাইয়ে যারা গণহত্যা করসে, গুম–খুন করসে, শিশুহত্যা করসে—তাদের কোনো অধিকার নেই আবার রাজনীতির নামে ফিরে আসার। ছাত্র–জনতা যেখানেই পাবে, সেখানেই গণপ্রতিরোধ গড়া হবে।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি কড়া ভাষায় সতর্কতা দেন:
“যাদের হাতে রক্ত লেগে আছে, তাদের প্রতি সিম্প্যাথি দেখালে চলবে না। দেড় বছরের সিম্প্যাথির কারণেই আজ খুনি হাসিনা ও তার দোসররা গর্ত থেকে বের হয়ে ষড়যন্ত্র করার সাহস পাচ্ছে। যে-ই হোক, সাবেক ভিসি হোক বা অন্য কেউ—পাওয়া মাত্র পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।”
তিনি আরও ঘোষণা দেন, “যারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকবে, সামনে–পেছনে যারা থাকবে—সবাইকে বাংলাদেশ থেকে নির্মূল করা হবে।”