ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বৃহস্পতিবার ঘোষিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে যে কোনো ধরনের নাশকতা বা অরাজকতার মোকাবিলায় ছাত্রশিবির প্রস্তুত থাকবে। বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান এবং আগামীকাল সারাদেশে অবস্থান কর্মসূচি ও ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশের ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ও অরাজকতার জায়গা নেই। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের যে কোনো চেষ্টাকে ছাত্রসমাজ ও জনগণ প্রতিহত করবে। আমরা আমাদের ছাত্র-জনতাকে নিয়ে যে কোনো নৈরাজ্যের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য মাঠে নামব।”
জাহিদুল ইসলাম আরো অভিযোগ করেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অগ্নিসন্ত্রাস প্রতিরোধে অনীহা দেখাচ্ছে বলে। তিনি উল্লেখ করেন, গত দুই দিনে নিষিদ্ধ সংগঠনের দুর্বৃত্তরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৫টির বেশি বাসে আগুন দিয়েছে; ময়মনসিংহে ঘুমন্ত অবস্থায় এক বাসচালক নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার জন্য তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং দ্রুত দোষিদের আইনের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জাহিদুল ইসলাম পাঁচ দফা দাবি — জুলাই গণহত্যা, গুম-খুন-নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করা এবং ফ্যাসিবাদী শাসনকে সমর্থন করা পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, যে সকল শক্তি নৈরাজ্য ছড়াতে চায়, তাদের শুরুর আগেই ছাত্রশিবির ও জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
সংগঠনের এই ঘোষণায় আগামী ১৩ ও ১৪ নভেম্বরের পরিস্থিতি সতর্কতার বড় ইঙ্গিত দিয়েছে; প্রশাসনও ইতোমধ্যে টহল বাড়ানো ও নিরাপত্তা জোরদারের প্রস্তুতি নিয়েছে।