চট্টগ্রামে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র ব্রাশফায়ারের নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে ওয়্যারলেস সেটে সিএমপির সব সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক মৌখিক আদেশে তিনি টহল ও থানা পুলিশকে একযোগে এই নির্দেশ দেন। রাতে নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিএমপি কমিশনার।
হাসিব আজিজ বলেন, “অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা আবারও চট্টগ্রামকে অন্ধকার জাহেলিয়াতের যুগে ফেরাতে চাচ্ছে, কিন্তু সেটা আমরা হতে দেব না। যদি তাদের দমন করতে কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গুলি করতেও হয়, করব। চট্টগ্রামকে আর কোনোভাবেই সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না।”
সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে কয়েক দফায় বেতার বার্তায় কমিশনার নির্দেশ দেন,
“শটগান হবে না, চায়না রাইফেলও বাদ। এখন এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে।”
নির্দেশনায় বলা হয়, নাশকতা ঠেকাতে প্রতিটি টহল টিমকে এসএমজি ছাড়াও শিশা শটগান, দুইটি গ্যাসগান এবং টিম ইনচার্জকে ৯ মিলিমিটার পিস্তল বহন করতে হবে। পাশাপাশি, স্থায়ী চেকপোস্টের সংখ্যা ৭ থেকে বাড়িয়ে ১৩টি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বেতার বার্তায় কমিশনার পুলিশ সদস্যদের দণ্ডবিধি ৯৬ থেকে ১০৬ ধারার কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে আত্মরক্ষার আইনি অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন,
“সব দায়ভার আমি নেব। কোনো সন্ত্রাসী যেন মাথা তুলতে না পারে।”
এর পেছনের প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলীতে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগ চলাকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন এরশাদ উল্লাহ নিজেও। এর একদিন পর আবারও একই এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
এই পরিস্থিতিতেই কঠোর নিরাপত্তা অবস্থান নিতে সিএমপি কমিশনারের এই নির্দেশ এসেছে বলে জানা গেছে।
এর আগেও, গত ১৩ আগস্ট আওয়ামী লীগের মিছিল চলাকালে অভিযানে যাওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় আত্মরক্ষায় “দেখামাত্র গুলি” নীতির নির্দেশ দিয়েছিলেন কমিশনার। পরে সেই বেতার বার্তা ফাঁসের অভিযোগে এক পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তারও করা হয়।