ধর্মকে ব্যবহার করে দেশে বিভেদ সৃষ্টি ও নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে ধর্মকে হাতিয়ার করে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি করছে। এরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করে দেশের ঐক্য বিনষ্ট করতে চায়।”
সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, “একাত্তরের ত্যাগের কথা ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। লাখ লাখ মানুষের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে। দেশের মানুষ যেমন ২৪-এর আন্দোলনের কথা ভুলবে না, তেমনি ৭১-কেও ভুলবে না।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “একটি চক্র পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আবারও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে সক্রিয় করার চেষ্টা করছে। যারা একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে হত্যা করেছিল, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ কোনোদিন আপস করবে না।”
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে কেবল যুদ্ধ নয়, এটি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতীক। আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও যখন মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত, তখন নতুন করে সেই চেতনাকে জাগিয়ে তুলতে হবে।”
তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের দায়িত্ব দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সত্য ইতিহাস জানানো। যেন তারা জানতে পারে, কারা দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে, আর কারা ইতিহাস বিকৃত করেছে।”
মির্জা ফখরুলের মতে, “বাংলাদেশ আজ ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে আছে। যারা জনগণের বিশ্বাস, স্বাধীনতার চেতনা ও গণতন্ত্রকে পদদলিত করবে, তাদের পরিণতি ইতিহাসে জায়গা পাবে না।”