ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে আলোচিত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবারও দলের মনোনয়ন পাননি। তার কাঙ্ক্ষিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে আপাতত কোনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত আব্দুর রহমান সানির বড় ভাই কবীর আহমেদ ভূঁইয়াও মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ঘোষণায় দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. হান্নান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান পেয়েছেন মনোনয়ন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান।
অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, শরিক দলের জন্য এই দুটি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে বাঞ্ছারামপুর আসনটি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকির জন্য ছাড়ার আলোচনা চলছে বলে স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সরাইল-আশুগঞ্জ আসনে রুমিন ফারহানার মনোনয়ন প্রত্যাশা ছিল সবচেয়ে বেশি। তার কর্মী-সমর্থকরা মনোনয়নের আশায় দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকায় হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে।
মনোনয়ন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “মনোনয়নের ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি সবকিছু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে প্রার্থী নির্ধারণ করেছেন। আমরা এখন দলের মনোনীত প্রার্থীদের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”