পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বৃহৎ পরিসরে কাজ করার সুযোগ পেলে দেশের সব নাগরিককে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসার আশা তার আছে। তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণের প্রশ্নে প্রস্তুতিপর্ব বাড়াতে গণপ্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।
উপদেষ্টা সজীব ভূঁইয়া এ মন্তব্য করেন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক কর্মশালায়, যেখানে নিরাপত্তা নীতিমালা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত পরামর্শ জানানো হয়। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা একে অপরের পরিপূরক; তাই মানুষের মধ্যে মৌলিক সেনা শিক্ষার আওতায় প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলা ও সক্ষমতা গড়ে তোলা গেলে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দ্রুত শক্তিশালী হবে।
সজীব ভূঁইয়া বলেন, “ভৌগোলিক বাস্তবতায় সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে হলে গণপ্রতিরক্ষার ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।” তিনি এই বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিরক্ষা ইউনিট গঠনের মাধ্যমে দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব ও আত্মরক্ষার মানসিকতা বিস্তৃত করা উচিত।
তিনি আরও দাবি করেন, শুধু পেশাদার বাহিনী নয়, সাধারণ মানুষও যদি মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ পায়, তা হলে বহুমুখী প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট বিপর্যয় মোকাবেলায় দেশ দ্রুত সজাগ ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেবে। পরিকল্পনাগতভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করলে দুর্যোগকালীন সেবা, নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং স্থানীয় সেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।
কর্মশালায় উপস্থিত নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সমাজকর্মীরা উপদেষ্টার বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলেন। তাদের মতে, সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকদের বেসামরিক জীবন ও মানবাধিকার রক্ষা করা জরুরি হবে। প্রশিক্ষণকে বাধ্যতামক করার আগে প্রশিক্ষণের লক্ষ্য, আয়তন ও সময়সূচি নির্ধারণে কঠোর জনমত গ্রহণ ও আইনগত বিধান নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তারা মন্তব্য করেন।
একেই ধারাবাহিকতা হিসেবে উপদেষ্টা সজীব ভূঁইয়া স্থানীয় প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও সিভিল সোসাইটি অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির পক্ষে জোর দেন। তিনি বলেন, যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ অঙ্গিকার করলে তা কেবল প্রতিরক্ষামাত্রাই বাড়াবে না, বরং এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা ওaptত নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করবে।
উপদেষ্টা বক্তব্যের সময় কিছু অংশগ্রহণকারী মনে করান যে, সামরিক প্রশিক্ষণকে বাধ্যতামক করার প্রস্তাবটি বাস্তবে ন্যায়সংগত ও কার্যকর হবে কি না তা নিয়ে নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি ও স্বাধীনতা বিষয়ক পর্যবেক্ষণ শক্তভাবে বিবেচনা করা উচিত। নিরাপত্তা ও নাগরিক স্বাধীনতার মধ্যে একটি সুস্পষ্ট সমন্বয় রক্ষার ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়।
শেষে উপদেষ্টা সজীব ভূঁইয়া অনুরোধ করেন, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখে পরিকল্পিতভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূয়সী কার্যকারিতা অর্জিত হবে। সবাইকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।