বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন পিছিয়ে যায়, এমন চেষ্টা করছে কিছু রাজনৈতিক দল। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে এগোচ্ছি। কিন্তু হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করছি, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনের সময়সূচি পেছাতে চায়, এটি মোটেও ঠিক নয়।”
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা এখন নির্ভর করছে একটি নির্বাচিত সরকারের ওপর। তিনি জাতীয় সংস্কার কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা অল্প সময়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করেছেন, যা পরিবর্তনের পর জরুরি ছিল।
তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমান ২০২২ সালে যে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা বিএনপির ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাই বহন করে। ম্যাডাম খালেদা জিয়া ২০১৬ সালে ‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষণা করেছিলেন, আর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দিয়েছিলেন ১৯ দফা কর্মসূচি। বিএনপির জন্মই হয়েছিল সংস্কারের মধ্য দিয়ে।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়া একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া নারীদের জন্য বিনা খরচে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ এবং মহিলা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অথচ এখন বিএনপিকে ‘ভিলেন’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ বারবার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলতে চেয়েছে, এমনকি তার মাজার সরানোর চেষ্টা করেছে। “কিন্তু পারেনি,” বলেন ফখরুল, “কারণ জিয়াউর রহমান ক্ষণজন্মা নেতা, যাকে ইতিহাসই ধারণ করেছে।”
কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “ইতিহাস জিয়াউর রহমানকে গ্রহণ করেছে, কেউ নিন্দা করলেও কিছু যায় আসে না।”
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, “তারেক রহমানই এখন সেই পতাকা বহন করছেন—যা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রতীক।”
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও প্রকাশনা উপকমিটির আহ্বায়ক আবদুস সালাম। উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী, আবদুল হাই শিকদার, মওদুদ আলমগীর পাভেল, মাহদী আমিন, রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, সাখাওয়াত হোসেন সায়ান্থ ও মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত প্রমুখ।