সরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তেলআবিব কেন্দ্রিক আগ্রাসী নীতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আরব রাষ্ট্রগুলো যখন একজোট হয়ে ইসরাইলকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে, তখনই কাতারভিত্তিক আল জাজিরা জানাচ্ছে—কাতারের পর এবার ইসরাইলের নজর পড়েছে তুরস্কের দিকে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দোহায় হামলার পর ইসরাইলের আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা তুরস্ককে পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। ওয়াশিংটনের ডানপন্থী থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল রুবিনও সতর্ক করে বলেছেন, তুরস্ক ইসরাইলের সম্ভাব্য পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে এবং আঙ্কারাকে কেবল ন্যাটো সদস্যপদের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়েছেন।
আঙ্কারার সামাজিক মাধ্যমে ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে নেতানিয়াহুর পরিকল্পনার খবর। ইসরাইলি শিক্ষাবিদ মেয়ের মাশরি সরাসরি লিখেছেন, “আজ কাতার, আগামীকাল তুরস্ক।” এতে এরদোয়ান প্রশাসন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইসরাইলকে কুকুরের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “বিশ্ব মানচিত্র থেকে ইসরাইলকে মুছে ফেললেই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।”
ইসরাইল পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের উপস্থিতিকে সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। সিরিয়ার পুনর্গঠন নিয়েও তারা তুরস্ককে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছে। গাজা যুদ্ধের সমাধানহীন অবস্থায় আগস্টে আঙ্কারা ইসরাইলের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করে পাল্টা জবাব দেয়।
কাতারে হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কঠোর অবস্থান না নেওয়ায় তুরস্ক এখন সন্দিহান হয়ে পড়েছে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—তুরস্কের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ইসরাইলি হামলায় ন্যাটো আসলেই সক্রিয় প্রতিক্রিয়া জানাবে কিনা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্ক বহু আগেই বুঝেছে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র বা ন্যাটোর ওপর শতভাগ নির্ভরশীল থাকা সম্ভব নয়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সরাসরি অভিযোগ করে আল জাজিরাকে বলেছেন, “বৃহত্তর ইসরাইল প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে সিরিয়া, মিশর ও জর্ডানকে দুর্বল ও অকার্যকর করে রাখা। ইসরাইল স্পষ্টতই প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে বিভক্ত রাখতেই চায়।”
এদিকে খবর পাওয়া গেছে, ইসরাইল এরদোয়ানের শত্রু রাষ্ট্র সাইপ্রাসে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে। গণমাধ্যমের দাবি, ইতিমধ্যে সাইপ্রাসে তিনটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো হয়েছে, যা আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?