নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় নারী পাচারের অভিযোগে চীনা নাগরিকসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৩ তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। সোমবার সকালে স্থানীয় কেন্দুয়া পৌর শহরের কমলপুর এলাকার লোকজন তাদের আটক পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
এর আগে গত ১সেপ্টেম্বর কেন্দুয়া পৌর শহরের কমলপুরের আলফা আক্তারকে লি উই হাও ঢাকায় বিয়ে করেন। আগামী ২০সেপ্টেম্বর তাকে নিয়ে চীন চলে যাওয়ার কথা ছিল। এরমধ্যে স্বামী লি উই হাত কে নিয়ে বাবার বাড়ির স্বজনদের সাথে পরিচয় করাতে আলফা কেন্দুয়ায় নিয়ে আসেন।
আলফা আক্তার ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন এবং তিনি ঢাকাতেই বসবাস করে আসছেন।
পরে আকটকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের হেফাজতে থাকা তিন তরুণীকে পুলিশ উদ্ধার করে।
আটককৃতরা হলেন- চীনা নাগরিক লি উই হাও (৩০) ও তার সহযোগী কুড়িগ্রামের রাজারহাটের সুখদেব পশ্চিমপাড়ার মৃত আব্দুল হানিফ মিয়ার ছেলে মোঃ ফরিদুল ইসলাম ( ৩২)।
উদ্ধার তরুণীরা হলেন, কেন্দুয়া পৌর শহরের কমলপুর এলাকার রুবেল মিয়ার মেয়ে পোশাক শ্রমিক আলফা আক্তার (১৮), মোজফরপুর ইউনিয়নের গগডা গ্রামের মহর উদ্দিনের মেয়ে লিজা আক্তার (২০) ও জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার গোপী নদী গ্রামের মৃত বছির উদ্দিনের মেয়ে বৃষ্টি (১৭) ।
নেত্রকোনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর পোশাককর্মী আলফা আক্তারকে বিয়ে করেন চীনা নাগরিক লি উই হাও। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর চীন চলে যাওয়ার দিন নির্ধারণ করেন।
চীন যাওয়ার আগে আলফার পরিবারকে এক লাখ টাকা দেয়ার কথা থাকায় এবং পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নেয়ার পাশাপাশি বিদেশী স্বামীকে পরিচয় করাতে রবিবার কমলপুরের বাড়িতে যান আলফা ও লি উই হাও।
এসময় লি উই হাওয় এর সাথে তার সহযোগী ফরিদুল ও তাদের প্রতারণার ফাঁদে পড়া দুই নারী বৃষ্টি ও লিজা ছিলেন। এদিকে আলফার বাড়ির লোকজন লি উই হাও এর সাথে কথা বললে তাদের সন্দেহ হয়।
তখন লি উই হাও পাসপোর্ট ভিসা দেখাতে না পারায় সন্দেহ আরো বাড়ে। পরে স্থানীয়রা লি উই হাও ও ফরিদুলকে থানায় সোপর্দ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ তাদের আটক করে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় কেন্দুয়া থানায় মানব পাচার অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পরে এই মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।