স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দিঘলিয়ার মাঝিরগাতী এ কে এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,
“স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, ‘পূজামণ্ডপের আশপাশে মেলা-মদ-গাঁজার আড্ডা বসতে দেওয়া হবে না।’ এই মন্তব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা মাত্র। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে মাদক বা অশুভ কর্মকাণ্ডকে জড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
আজিজুল বারী হেলাল বলেন,
“বাংলাদেশের মানুষ সব ধর্মের প্রতিই শ্রদ্ধাশীল। পূজামণ্ডপ শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়, এটি দেশের সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির প্রতীক। অথচ দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। মাদক ও অপরাধ দমন সরকারের দায়িত্ব, কিন্তু তা কোনো ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে যুক্ত করলে জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা যায়।”
তিনি অবিলম্বে এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন,
“গত ১৭ বছর জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে। অথচ জনগণ রক্ত দিয়ে সংগ্রাম করেছে একটি নতুন সরকার ও নতুন দিনের বাংলাদেশ গড়তে।”
দশমীর দিনে প্রতিমা বিসর্জনের সময় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পুরোহিত ও পঞ্জিকার ওপর নির্ভর করবে। যেমন ঈদের নামাজ চাঁদ দেখে নির্ধারিত হয়, তেমনি পূজার সিদ্ধান্তও ধর্মীয় কর্তৃপক্ষই নেবেন, অন্য কারও হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।”
বিএনপির এ নেতা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের আমলে হিন্দুরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন,
“বিএনপি হবে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানদের মিলনস্থল। বিএনপি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা দখলবাজির সঙ্গে জড়িত নয়। হিন্দুরা বিএনপিকে ভোট দেয় না—এ ধারণা ভুল। আগামী নির্বাচনে গাজীরহাটের মানুষই তা প্রমাণ করবে।”
স্থানীয় সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিশেষভাবে পানীয় জলের সংকট সমাধানে বয়োজ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানান।
গাজীরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রামপ্রসাদ অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক খাঁন জুলফিকার আলী জুলু, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল ও দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. সাইফুর রহমান মিন্টু।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা বিল্লাল হোসেন, সাবেক সহসভাপতি বাবু সুবোধ কুমার বিশ্বাস, ছাত্র-যুব মতুয়া মহাসংঘের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বাবু প্রসেনজিৎ সিকদার প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুকিত মীর ও সাধারণ সম্পাদক মো. বাদশা গাজী।