শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মুন্সীগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে দালালের দৌরাত্ম

মুন্সীগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর দালালের দৌরাত্মে সেবা গ্রহিতারা নানা বিড়ম্বনায়। আর আগুনে ভস্মীভূত নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের দুই উপজেলার সেবা দিচ্ছে মুন্সীগঞ্জ অফিস। এতে দালাল চক্রের তৎপরতা বেড়েগেছে। তাই হয়রানির শিকার হচ্ছে অনেক রেমিট্যান্স যোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষ। জনবলের অভাবের দোহাই দিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। অসহনীয় পরিবেশে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে সেবা গ্রহীতাদের। বিশৃঙ্খল পরিবেশেই কাগজপত্র […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ নভেম্বর ২০২৪, ২৩:০০

মুন্সীগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর দালালের দৌরাত্মে সেবা গ্রহিতারা নানা বিড়ম্বনায়। আর আগুনে ভস্মীভূত নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের দুই উপজেলার সেবা দিচ্ছে মুন্সীগঞ্জ অফিস। এতে দালাল চক্রের তৎপরতা বেড়েগেছে। তাই হয়রানির শিকার হচ্ছে অনেক রেমিট্যান্স যোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষ। জনবলের অভাবের দোহাই দিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।

অসহনীয় পরিবেশে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে সেবা গ্রহীতাদের। বিশৃঙ্খল পরিবেশেই কাগজপত্র জমা নেয়া হচ্ছে। সেখান থেকে ক্লিয়ারেন্স পেলে আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশ ও ছবি তোলার জন্য আরও লম্বা লাইন। জমা দেওয়ার পর আবার কারও কারও কাগজপত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। আবার অনেকে নির্ধারিত সময় অতিক্রান্তের পর নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট ডেলিভারি নিতে এসেও ফিরে যাচ্ছেন। টুকিটাকি কিছু ভুলের কারণ দেখিয়েও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সেবা গ্রহীতাদের।

কর্তৃপক্ষ বলছে, ভুল সংশোধন করা পাসপোর্ট ঢাকায় পেন্ডিং আছে ৩ শতাধিক। এগুলো আসতে কিছুটা বিলম্ব হয়। কিন্তু সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে সহজেই পাসপোর্ট মিলে।
পাসপোর্ট করতে আসা এক ভোক্তভোগী বলেন, ‘দালাল ছাড়া যদি আসি। তাহলে আমার পাসপোর্টটাই হবে না। যারা দেশে আছে তাদেরটাও না, আমরা যারা প্রবাসী আছি তাদেরটাও না।

দালাল ছাড়া যদি আমরা এখানে আসি শুধু ঘুরতে হবে। আমাদের পাসপোর্ট জীবনেও হবে না সেটা আমরা ভালো করে জানি। অবশ্যই সিস্টেম চেঞ্জ করা উচিত।

পাসপোর্ট করতে আসা আরেক যুবক বলেন, ‘পাসপোর্ট অফিসের রাস্তা থেকে জিজ্ঞেস করে পাসপোর্ট বানাবেন। টাকা দেন ক্লিয়ার করে দেই। দালালকে দিলে ৫ মিনিটেই হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ নিজেরটা নিজে নিজে আসে। ওইটা ৫ ঘণ্টাতেও হয় না। শত শত লোক এসে দাঁড়িয়ে আছে। বসার কোনো ডিসিপ্লিন নাই।’
মধ্যবয়সী এক সেবাগ্রহীতা বলেন, ‘জেনুইনভাবে পাসপোর্ট করতে আসা লোক এখানে অপমান অপদস্ত ছাড়া আর কিছুই হয় না। দালালদের ২০০/৫০০ টাকা দিলে ১০ মিনিটের ভিতরে কাজ হয়ে যায়।

এটাতো বাংলাদেশের জনগণ আশা করে না। এখানে কোনো নিয়মনীতি নাই। অনেকেই দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে গেছে।’
পাসপোর্ট করতে আসা এক নারী সেবাগ্রহণকারী বলেন, ‘যখন দালালের মাধ্যমে পাসপোর্টের মাধ্যমে আবেদন করি। তখন দালালকে ১২ হাজার টাকা দেই। ১২ হাজার টাকায় ১৪ দিনে পাসপোর্ট খুব সহজেই পেয়ে যাই। এখন পাসপোর্ট পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’

পাসপোর্ট করতে আসা এক নারী সেবাগ্রহণকারী বলেন, ‘যখন দালালের মাধ্যমে পাসপোর্টের মাধ্যমে আবেদন করি। তখন দালালকে ১২ হাজার টাকা দেই। ১২ হাজার টাকায় ১৪ দিনে পাসপোর্ট খুব সহজেই পেয়ে যাই। এখন পাসপোর্ট পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’
আরেক পাসপোর্ট আবেদনকারী বলেন, ‘এটা একটা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। এখানে রুম রয়েছে
পর্যাপ্ত। কিন্তু অপারেটরের সংখ্যা সীমিত। এখানে আমরা আরও বেশি অপারেটর চাই। যাতে জনগণকে জিম্মি করা না হয়। অপারেটর বেশি থাকলে জনগণ বেশি সেবা পাবে। এতে আমরা উপকৃত হবো।’

আর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের থেকে আসা সরকারি চাকরিজীবী আনোয়ারা আক্তার অভিযোগ করে জানান, তার ছবির সাথে ঢাকার উত্তরার পশ্চিম আব্দুল্লাপুরের রেহানা আক্তারের চেহারার মিল থাকায় দীর্ঘদিন ঘুরেও পাসপোর্ট পাচ্ছেন না। এছাড়া একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন- তাদের ফাইল জমা দেয়ার পরও দিন শেষে ফাইল খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে নানাভাবে ধর্ণা দেয়ার পর ফাইল বের হয়।

অফিসটিতে নিয়ম শৃঙ্খলার কোনো বালাই নেই, ফ্রি স্টাইল চলছে উল্লেখ করে সিরাজদিখান থেকে এসা এক মালেশিয়া প্রবাসী প্রশ্ন করে বলেন, এভাবে একটা পাসপোর্ট অফিস চলতে পারে?

মুন্সীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসটির উপপরিচালক মোহাম্মদ কামাল হোসেন খন্দকার
বলেন, ছাত্র আন্দোলনে পুড়িয়ে দেয়া নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিস ৪ মাসেও চালু করা যায়নি। তাই নারয়ণগঞ্জের বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষ পাসপোর্ট করতে আসেন মুন্সীগঞ্জে। বাড়তি চাপ আবার জনবল সঙ্কটে সমস্যায় পরতে হচ্ছে।

এছাড়া প্রতিদিন পাসপোর্ট অফিসে পুলিশ দেয়া হলেও বেশ কিছুদিন দেয়া হচ্ছে না। স্বল্প সংখ্যক আনসার কুলিয়ে উঠতে পারছে না। এছাড়া দালালের দৌরাত্ম্য নিয়ে তিনি বলেন, অফিসের ভেতরে কোনো দালাল নেই। বাইরের বিষয়তো আমাদের কন্ট্রোলে নেই।

তিনি জানান, গেল অক্টোবর মাসে মুন্সীগঞ্জ অফিস থেকে প্রায় ৮ হাজার পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। এ পাসপোর্ট অফিসে প্রতিদিন এখন গড়ে ৩শ’ আবেদন জমা পড়ে। নারায়ণগঞ্জের পাসপোর্টটি গত ১৭ জুলাই পুড়িয়ে দেয়া হয়। তাই এখন নারয়ণগঞ্জের ৭ উপজেলাকে ৩টি স্থানে পাসপোর্টের কার্যক্রম স্থান্তর করা হয়েছে।

এরমধ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ সদরের পাসপোর্টের কার্যক্রম চলছে। নরসিংদী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার উপজেলার বাসিন্দাদের পাসপোর্টের কার্যক্রম। আর মুন্সীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে চলছে বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার কার্যক্রম।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।