ভারতের দক্ষিণি সিনেমার জনপ্রিয় মুখ থালাপতি বিজয় এখন শুধু অভিনেতা নন, রাজনীতির ময়দানে এক নবাগত ত্রাস। সম্প্রতি ভারতের কট্টর ইসলাম বিদ্বেষী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপিকে সরাসরি ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে দেশের রাজনীতিতে এক প্রবল আলোড়ন তুলেছেন তিনি। আর সেই কারণেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে বিজয় কি তবে মোদির নতুন আতঙ্ক?
সম্প্রতি মাদুরাইয়ের পারাপাথিতে দলীয় দ্বিতীয় রাজ্য সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে থালাপতি বিজয় স্পষ্ট জানিয়ে দেন— বিজেপি তার আদর্শগত শত্রু। অন্যদিকে, রাজ্য রাজনীতিতে ডিএমকেকে তিনি দেখছেন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে। তার দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজগাম’ ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে কোনও জোটে যাবে না, একাই লড়বে।
এই ঘোষণা শুধু রাজনৈতিক চমক নয়, বরং দেশের শাসকদলের জন্য এক সতর্কবার্তাও। বিজয়ের কথায়, “সিংহ বিনোদনের জন্য বেরোয় না, শিকারের জন্য বেরোয়। যত শেয়ালই থাকুক, রাজা কিন্তু একটাই।” থালপতি বিজয়ের এভাবে উত্থান যেনো কিছুতেই মানতে পারছেন না প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তার দল বিজেপি। একের পর এক ছক কষছেন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই অভিনেতাকে তার পথ থেকে রাজনীতির ময়দান থেকে সড়াতে।
এজন্যই কি না রাজনীতির ময়দানে পা রাখার পরপরই থালাপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। পেরাম্বালুর জেলার কুন্নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, বিজয়ের দেহরক্ষীরা তার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করেছেন। এই অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির তিনটি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এই মামলা কি নিছক একক ঘটনা, নাকি বিজয়ের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত কোনও রাজনৈতিক ছক? বিশেষ করে যেভাবে তিনি মোদি ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খুলেছেন, তা ঘিরেই তৈরি হয়েছে নানা গুঞ্জন।
তবে যত ষড়যন্ত্র আর যাই হোক না কেন এটাই প্রথম নয় এর আগেও থালাপতি বিজয় মোদির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। নিট পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “মোদিজি, আপনি কি এটা করতে পারেন?” এমন খোলামেলা অবস্থান নেওয়া বলিউড বা দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে খুব কমই দেখা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিজয় এখন তামিল রাজনীতিতে এক সম্ভাবনাময় তৃতীয় শক্তি হিসেবে উঠে আসার পথে। ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে ‘টিভিকে’-কে তুলে ধরতেই তার এই আগ্রাসী রাজনৈতিক রণনীতি। আর এজন্যই তিনি মোদির আতঙ্কে পরিণত হয়েছেন। তাকে হটাতে বিজেপি আর মোদি সর্বস্ব দিয়ে ষড়যন্ত্র করবে, মামলা হামলা কিংবা অনাকাক্সিক্ষত কিছু কোনটাই করতে বাদ রাখবে না ভারতের রাজনীতিতে ফ্যাসিস্টে রূপান্তর হওয়া মোদির দল বিজেপি।
এদিকে তামিল রাজনীতিতে সিনেমার তারকাদের প্রভাব নতুন নয়। এমজি রামচন্দ্রন, জয়ললিতা, এনটি রামা রাও, কামাল হাসান সবাই রাজনীতিতে নিজেদের ছাপ রেখে গেছেন। তবে থালাপতি বিজয়ের আগমন যেন অন্য রকম। আগের চেয়ে অনেক বেশি তীক্ষ্ণ, কৌশলী এবং স্পষ্ট। তিনি যে ওয়ান ম্যান আর্মি।
থালাপতি বিজয় রাজনীতির মঞ্চে যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে জাতীয় পর্যায়ে। বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ, নিজের দল নিয়ে একক লড়াইয়ের ঘোষণা এবং তারপরে তাকে ঘিরে মামলা সব মিলিয়ে ছবিটা যেন স্পষ্ট বিজয়কে রুখতেই তৈরি হচ্ছে এক নতুন ষড়যন্ত্রের ছক। কিন্তু প্রশ্ন হলো মোদির আতঙ্ক হয়ে উঠতে পারা এই ‘সিংহ’কে থামানো এত সহজ কি? ২০২৬-এর ভোটই পাওয়া যাবে সেই উত্তর।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?