মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

গকসু নির্বাচন ঘিরে আবারো প্রশ্ন—কোথায় নারী নেতৃত্ব?

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি সংবাদদাতা: গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অন্যতম স্বপ্ন ছিল এখানকার ছাত্রীদের নেতৃত্ব গড়ে তোলা, যাতে তারা জাতীয় পর্যায়েও নেতৃত্ব দিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের অভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন গকসুর সর্বশেষ নির্বাচিত […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ আগস্ট ২০২৫, ২৩:২৭

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি সংবাদদাতা:

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অন্যতম স্বপ্ন ছিল এখানকার ছাত্রীদের নেতৃত্ব গড়ে তোলা, যাতে তারা জাতীয় পর্যায়েও নেতৃত্ব দিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের অভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।

বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন গকসুর সর্বশেষ নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) জুয়েল রানা। তার মতে, মেয়েদের নেতৃত্বে অনাগ্রহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য হতাশাজনক। শুধু তিনি নন, শিক্ষার্থী-শিক্ষক থেকে সংশ্লিষ্ট অনেকেই একই হতাশার সুরে কথা বলছেন।

২০১৩ সালে প্রথম গকসু নির্বাচনে সহসভাপতি হয়েছিলেন এমবিবিএসের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিশু এবং কোষাধ্যক্ষ হয়েছিলেন ফার্মেসি বিভাগের মৌসুমি। দ্বিতীয় সংসদে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও পরাজিত হন আইন বিভাগের কণিকা।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদে জয়ী হন ফার্মেসির খাদিজাতুত তাহিয়া সেতু। তবে এ ছাড়া গকসুর শীর্ষ পদগুলোতে নারীদের উপস্থিতি তেমনভাবে দেখা যায়নি।

চলতি বছরের ৯ আগস্ট গকসুর চতুর্থ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এবারও নারী নেতৃত্বের সংকট চোখে পড়ছে, যা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

এ বিষয়ে জুয়েল রানা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে লেখেন, ডা. জাফরুল্লাহর স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও নারী নেতৃত্ব তৈরি করতে প্রশাসন এবং আসন্ন সংসদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা জরুরি। এ লক্ষ্যে তিনি নিজেও উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

নারী নেতৃত্বে অনাগ্রহের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরাও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সুলতানা আক্তার মিতুর মতে, মনস্তাত্ত্বিক বাধা, কটূক্তি, ট্রলিং কিংবা নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে অনেক ছাত্রী নির্বাচনে আসতে ভয় পায়।

তাছাড়া সামাজিক স্বীকৃতি ও পারিবারিক সমর্থনের অভাবও তাদের অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করছে। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক ছাত্রী নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকছে।

ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী আল-আরাফাত বলেন, “ছাত্র সংসদ নির্বাচনে মেয়েদের কম অংশগ্রহণের অন্যতম কারণ হচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা ও পর্যাপ্ত উৎসাহের অভাব। পূর্ববর্তী নির্বাচনে দেখা গেছে, একই বিভাগ থেকে দুইজন ছেলে প্রার্থী দাঁড়ালে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত।

এসব পরিস্থিতি মেয়েদের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে। এমনকি একজন ছাত্রী প্রার্থী হলেও তার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে বিভাগ আগ্রহ দেখায় না। তাই প্রশ্ন থেকেই যায়—যখন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় না, তখন মেয়েরা কীভাবে নির্বাচনে নামতে উৎসাহী হবে? এই অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতাই মূলত তাদের পিছিয়ে দিচ্ছে।”

রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক হাবিবুল্লাহ্ বেলালী বলেন, “গকসু’তে নারী নেতৃত্ব তুলনামূলকভাবে দুর্বল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্ররাজনীতিতে সহিংসতার যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা নারীদের স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতি বা প্রতিনিধিত্বমূলক জায়গায় এগোতে নিরুৎসাহিত করছে।

অথচ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই গবি নারী নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উদাসীনতা ও নিয়মিত নির্বাচন না হওয়ায় ছাত্রীরা নির্বাচন সম্পর্কে সচেতনতা ও প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়েছে।”

কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মভীরুতার বিষয়টি বেশি থাকলেও রাজনৈতিক সচেতনতা তুলনামূলক কম। তার সঙ্গে সামাজিকভাবে নারীদের নিরাপত্তাহীনতা স্পষ্ট।

সমাজে যেখানে নারীদের পিছিয়ে রাখা হয়, সেই প্রভাবও শিক্ষাজীবনে পড়ে। তবুও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, গকসু নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য নারী নেতৃত্ব উঠে আসবে, যারা সমাজ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন জানান, “নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিষয়টি শুরু থেকেই প্রশাসনের গুরুত্বের জায়গায় রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করি। এ ক্ষেত্রে নারীদের জন্য বিশেষ সংরক্ষিত অধিকার রাখা হয়েছে।

যেমন—অনুষদ প্রতিনিধি পদে যদি দুজন নির্বাচিত হন, তবে তাদের মধ্যে একজন অবশ্যই নারী হবেন। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রতিও আহ্বান থাকবে যাতে তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে নারী নেতৃত্বকে শক্তিশালী করে। সকলের সহযোগিতায় নির্বাচন সফল ও কার্যকর হবে।”

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার […]

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:০৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আলতাফ হোসেন শরিফ ওসমান হাদিকে কটূক্তিমূলকভাবে ‘জংলি’ আখ্যা দেন।

ওই পোস্টে তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার ঘটনাগুলোর সঙ্গে হাদির নাম জড়িয়ে মন্তব্য করেন, যা শিক্ষার্থীদের মতে চরম অবমাননাকর ও উসকানিমূলক।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল—‘হাদিকে যিনি জংলি বলেন, তিনি নিজেই জঞ্জাল’, ‘আপনি জংলি কাকে বলেন? জুলাই যোদ্ধাকে?’, ‘হাদি ভাইয়ের মতো আমরা সবাই জংলি, এই জঙ্গলে আমরা এমন শিক্ষক চাই না’—ইত্যাদি।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করা, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের অপতৎপরতা বন্ধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা,

ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ ওসমান হাদির নামে হল বা স্থাপনার নামকরণ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন বিপ্লবীকে ‘জংলি’ বলা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং দেশের জন্য আত্মত্যাগ ও জাতির সম্মানকে অপমান করার শামিল। তারা দাবি করেন, যিনি জাতির বিবেক গঠনের দায়িত্বে আছেন, তাঁর কাছ থেকে এমন ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ক্যাম্পাসে আবারও ফ্যাসিবাদী মানসিকতা মাথাচাড়া দিতে পারে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেন বর্তমানে স্কটল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।