জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের কোনো কোনো সদস্য অসন্তুষ্ট হয়েছেন—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তার ভাষায়, নির্বাচন ঘিরে উপদেষ্টা পরিষদের ভেতরে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বুধবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজশাহীর আলুপট্টি মোড়ে বিজয় র্যালির আগে বিএনপি আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন হাফিজ। এই আয়োজন ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ।
হাফিজ বলেন, “এই অন্তর্বর্তী সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন কেউ কেউ মনে করেছিলেন তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকবেন। অনেকে এমন মন্তব্যও করেছেন যে নির্বাচনের আর প্রয়োজন নেই। কিন্তু প্রফেসর ইউনূস আমাদের নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন হবে। তিনি তার কথা রেখেছেন, এজন্য তাকে ধন্যবাদ।”
তিনি আরও বলেন, “এই আন্দোলন আমরা এমনি গড়িনি। এতে বিএনপির পাঁচ শতাধিক কর্মী শহীদ হয়েছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না। আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে চাই না, আমরা চাই জনগণের রায় প্রতিষ্ঠিত হোক।”
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল গণতন্ত্রের জন্য। কিন্তু সেই গণতন্ত্রই আজ ধ্বংস হয়েছে আওয়ামী লীগের হাতে। যারা নির্বাচনের ঘোষণা শুনে অখুশি, তারা জানে জনগণ তাদের ভোট দেবে না।”
এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত, আবু সাঈদ চাঁদ, অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা ও মামুন-অর-রশিদ। উপস্থিত নেতারা দাবি করেন—এই নির্বাচন দেশের জন্য একটি মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হবে।