সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের সময় এসে গেছে। তার মতে,
“এখনই তাদের এক্সিট পলিসি নিয়ে চিন্তা করা উচিত। এই সরকার কীভাবে ক্ষমতা ছাড়বে, সেটি পরিষ্কার করা জরুরি। তারা যে কাজগুলো করেছে, আগামী সরকার সেগুলো বৈধতা দেবে কি না- সেটিও এখনো প্রশ্নসাপেক্ষ।”
রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘ডেমোক্রেসি ডায়াস বাংলাদেশ’ আয়োজিত সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন,
“দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও এই সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। যত দিন তারা ক্ষমতায় থাকবে, সংকট ততই গভীর হবে।”
সেমিনারে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল অভিযোগ করেন, সরকার সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণ করে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন,
“পিআর পদ্ধতি ভালো হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি একেবারেই সময়োপযোগী নয়।”
অনুষ্ঠানে ডেমোক্রেসি ডায়াস বাংলাদেশের একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়, যেখানে দেখা যায় বিশ্বের ২৬টি দেশের মধ্যে ১৬টি দেশ অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে স্বল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করেছে এবং দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সংখ্যানুপাতিক (পিআর) নির্বাচন পদ্ধতির বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
বক্তারা বলেন,
“বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এখনো পিআর পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নয়। যারা এই দাবি তুলছেন, তারা দেশের স্বার্থে নয়, বরং দলের স্বার্থে কথা বলছেন। সরকারকে সময় দেওয়ার সুযোগ তৈরির জন্যই এই প্রচেষ্টা চলছে।”
আলোচকরা আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো নির্বাচন, সংস্কার নাকি বিচার- কোনটি আগে হবে তা নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য আছে। জামায়াত ও এনসিপি পিআর পদ্ধতির দাবি তুললেও বিএনপি সরাসরি ভোটের পক্ষে অনড় রয়েছে।
বক্তারা বলেন,
“বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। তাদের সংস্কার কার্যক্রম আসলে সময়ক্ষেপণ ছাড়া কিছু নয়। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার ফলে দেশের অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক পরিস্থিতি ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। তাই দ্রুত নির্বাচনের মধ্য দিয়েই সংকটের সমাধান করতে হবে।”