রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের উপর কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : কীটনাশকের ব্যবহারে মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান মুলক সমীক্ষায় নেত্রকোনায় বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইনডিজেনাস নলেজ (বারসিক) এর আয়োজনে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টায় মুক্তারপাড়া জেলা প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।   সংবাদ সম্মেলনে সমীক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেন বারসিক এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ওয়াহিদুর […]

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুলাই ২০২৫, ২১:৪১

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

কীটনাশকের ব্যবহারে মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান মুলক সমীক্ষায় নেত্রকোনায় বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইনডিজেনাস নলেজ (বারসিক) এর আয়োজনে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টায় মুক্তারপাড়া জেলা প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।  

সংবাদ সম্মেলনে সমীক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেন বারসিক এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ওয়াহিদুর রহমান, অধিকমাত্রায় ও নিয়ম বর্হিভূতভাবে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটি-পানি-বায়ু দূষণ ও মৌমাছি, ব্যাঙ, কেঁচো সহ মাটির অনুজীবের বিলুপ্ত হচ্ছে। পরিবেশগত বিপর্যয় তৈরী হচ্ছে।

পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের উপর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের করা এক জরিপে ক্যান্সারে আক্রান্ত পুরুষ রোগীর মধ্যে ৬৪ ভাগ কৃষি কাজের সাথে জড়িত। প্রতি বছর কৃষকদের ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা উর্ধ্বমুখী হতে দেখা যাচ্ছে।

কৃষকদের দেরিতে ক্যান্সার শনাক্ত হয়। আর তারা খালি পায়ে, খালি গায়ে, পিপিপি, মাস্ক, গ্লাভস ছাড়াই কীটনাশক জমিতে ব্যবহার করে। হাত লাগিয়ে মাটি ও পানির মধ্যে কাজ করে। জমিতে যে কীটনাশক তারা দেয় তা নিয়মিত কৃষকের সংস্পর্শে আসে। 

কৃষিশ্রমিকের খরচ কমাতে আগাছা নাশকের ব্যবহার বাংলাদেশে এখন অনেক বেশি হচ্ছে। যেমন ‘এলড্রিন, ডাইএলড্রিন, ‘ডিডিটি, ‘এনড্রিন, ইত্যাদি। বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক’র উদ্যোগে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের উপর কীটনাশকের প্রভাব এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধ্যানমূলক সমীক্ষা করা হয়। গবেষণার জন্য নেত্রকোনা সদর ও আটপাড়া উপজেলার ৫ টি গ্রামের ২৩ জন কৃষকের সাথে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয় এবং বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে মতামত গ্রহন করা হয়।

Endosulfan, heptachlor, Carbofuran, Aluminum phosphide, Glyphsate, pyrethroide, paraquat, Di-clofenac, DDT(Dichlorodiphenyltrichloroethane), Aldrin, Dieldrin, Endrin,Heptachlor, Chlordane, Methyl Parathion Ethyl Parathion, Monocrotophos Phosphamidon, Methyl, Bromide, Endosulfan, Hexachlorobenzene, Toxaphene, Mirex, Dicrotophos, Disulfoton, Mercury compounds.

এসব নিষিদ্ধ কীটনাশকের বিষয়ে তারা জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ কীটনাশক এখন বিভিন্ন নামে বাজারজাত হচ্ছে। খুব সতর্ক ভাবে বেঁচাকেনা করে। কৃষকেরা কান্ডারী ৫ জি, গ্রীনফোম, ইউনিকোয়াট, রাজটক্স ব্যবহার করেন যা এগুলোর জেনেরিক নাম Carbofuran, Aluminum Phosphide, Paraquat কে নির্দেশ করছে। ভিরতাকো বুলেট, কান্ডারী ৫জি, গ্রিনফোম, ইরেজার, ইউনিকোয়াট, রাজটক্স, সোর্ড, বায়োগ্রীন, সুপার গোল্ড, নাইট্রো, সিলেক্ট গ্লাস, রাইস, রিফিট, বাসুডিন, কে-টু, রাজধান, কমরেড, নির্মূল, জায়ডিন নামের কীটনাশকগুলো বেশী ব্যবহার করে।

কৃষকেরা বলেছেন, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, উচ্চরক্তচাপ, বিষন্নতা, উদ্বেগ, খাবারের অরুচি, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অজ্ঞান হওয়া, স্নায়ু দুর্বলতা, ত্বকের রোগ, ঘুম কম হওয়া, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং লিভারের রোগ, কিডনির সমস্যা, পুরুষের বন্ধ্যাত্ব ও নারীর বন্ধ্যাত্ব, প্যারালাইজড, ফুসফুসে ক্যান্সার, চোখের ছানি, পা ভারী হয়ে যায়, বুক ব্যাথা হার্টের সমস্যা। তবে এসব রোগ কীটনাশকের কারনেই যে হয়েছে তা গবেষণার প্রয়োজন আছে। ২৩ জন কৃষক গত এক বছরে চিকিৎসা বাবদ খরচ করেছেন: ১৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। তারা বলেছেন, নিজে শুধুই না পরিবারের অন্যরাও যেমন নারী, শিশুরা আক্রান্ত হয়।

সব কৃষকেরই কীটনাশক ক্রয়ের সময় কোন রশিদ নিতেন না। কীটনাশক ব্যবহারের সময় কোন পিপি, মাস্ক, গ্লাবস ব্যবহার করেন না। এ বিষয়ে সচেতনতার অভাব। সরকারীভাবে কোন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়না। কীটনাশকের লেভেলে বিপদ ও সতর্কতামূলক কথা অনেকেই পড়েন না।

কীটনাশক মানব দেহ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কীটনাশক ব্যবহারে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। কৃষি কাজে এর ব্যবহার অতিরিক্ত হওয়ায় দিন দিন আমরা এটিকে স্বাভাবিক ভাবেই দেখতে শুরু করেছি। কীটনাশকের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার জলাভূমির পানি নষ্ট হয়ে মাছের বংশবৃদিধ কমে যাচ্ছে। মাছ, ব্যাঙ, কেঁচো, শামুক, ঝিনুক, মাটির অনুজীব, পাখি, মৌমাছি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে কীটনাশকের অবাধ ব্যবহাকে কৃষকেরা দায়ী মনে করে।

যে সুপারিশ গুলো মাঠ ও বিশেষজ্ঞ পর্যায় থেকে ওঠে আসে তা হলো:

১। কৃষকদের সচেতনতার জন্য স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ ও আলোচনা অনুষ্ঠান করা দরকার। ২। নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার, বাজারজাতকরন, সংরক্ষণ, বিক্রি যাতে না করতে পারে তার জন্য মনিটরিং বাড়াতে হবে ৩। অনুমোদনহীন কীটনাশকের দোকান বন্ধ করা হবে ৪। অর্গানিক কৃষিচর্চা বাড়াতে সরকারী বেসরকারী সহযোগিতা বাড়াতে হবে ৫।

কীটনাশকের ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ কীটনাশক বিষয়ে কৃষকের কাছে তথ্য ঘাটতি আছে যা জানানো জরুরি ৬। কৃষককে কৃষিকর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ি কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে ৭। কীটনাশক ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা করতে হবে ৮। আইনসঙ্গতভাবে অনুমোদিত সঠিক মাত্রার কীটনাশক ব্যবহার করা ৯। কীটনাশক ব্যবহারের সময় কৃষক কোন পিপি, মাস্ক, গ্লাবস ব্যবহার করেন না অবশ্যই ব্যবহর করতে হবে ১০।

মাঠ পর্যায়ে নিষিদ্ধ কীটনাশকের তালিকা ও অপকারীতা বিষয়ে বিলবোর্ড স্থাপন করতে হবে ১১। জেলায় কত কীটনাশক বিক্রি হয় তার কোন তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে হিসাব নেই ১২। ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক উপকরণ (পিপিপি), গ্লাভস, মাস্ক বিনামূল্যে কৃষক এবং কৃষি শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করা ১৩। নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার ও বিক্রয় তদারকী আরো জোরদার করা করতে হবে।

বারসিকের পক্ষথেকে নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার, বাজারজাতকরন, সংরক্ষণ, বিক্রি যাতে না করতে পারে তার জন্য মনিটরিং বাড়ানো নিয়ন্ত্রণ, জৈবকীটনাশকের ব্যবহার বাড়ানো প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ- মাছ, ব্যাঙ, কেঁচো, শামুক, ঝিনুক, মাটির অনুজীব, পাখি, মৌমাছিসহ সকল প্রাণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবী জানাই। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক ম কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম, সাবেক সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, বাসস এর নেত্রকোনা সাংবাদিক তানভীর হায়াত খান প্রমুখ।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।