সবার জন্য সমান অধিকার, বৈষম্যহীন সমাজ ও সম্প্রীতির রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয়ে রাঙামাটিতে পদযাত্রা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (২০ জুলাই) দুপুরে রাঙামাটি রাজবাড়ীর শিল্পকলা একাডেমি থেকে শুরু হয়ে বনরুপা পুলিশবক্স চত্বরে গিয়ে শেষ হয় এই পদযাত্রা ও সমাবেশ।
পদযাত্রায় বক্তারা বলেন, “আমরা কোনো বৈষম্য চাই না। পাহাড়-সমতল, শহর-গ্রাম—সব জায়গার মানুষ যেন সমান সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতেই আমাদের এই আন্দোলন।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে বছরের পর বছর ধরে বিভাজন ও অশান্তি জিইয়ে রেখে কিছু গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে। আমরা সেই সুযোগ দিতে চাই না। মুসলিম, হিন্দু, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা—সব জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “মুজিববাদী সংবিধান দেশের সব জনগোষ্ঠীকে প্রতিনিধিত্ব করে না। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাও সে কারণে প্রতিবাদ করেছিলেন। তাই আমাদের নতুন সংবিধান চাই, যেখানে সবার সমান অধিকার থাকবে।”
উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “আমলা-কর্মকর্তারা দুর্নীতির শাস্তি হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বদলি হন। তারা সেখানে গিয়েও অপরাধে লিপ্ত হন। পাহাড় কোনো শাস্তিস্থল নয়—এটা সম্মানের স্থান। দুর্নীতিবাজদের শাস্তি হতে হবে আইনের মাধ্যমেই।”
পদযাত্রাকে ঘিরে রাঙামাটি শহরে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১১০০ সদস্য।
এনসিপি নেতারা বলেন, “আগামী চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের ডাক নয়, এটি একটি নৈতিক ও মানবিক আন্দোলন—যেখানে জাতি, ধর্ম, গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে গড়তে হবে একটি বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ।”