গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ফের স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন—যারা গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামো, বিশেষ করে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (PR) নির্বাচন বোঝে না, তাদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। শুক্রবার বিকেলে মেরুল বাড্ডায় অনুষ্ঠিত ‘৩৬ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিরোধ’ স্মরণে আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এই বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন,
“যারা পিআর নির্বাচন বোঝে না, তাদের রাজনীতি করার দরকার নেই। যারা বোঝে, তারাই রাজনীতি করবে।”
এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে শাসনতন্ত্র পুনর্গঠন করতে হলে বিকল্প নির্বাচনী কাঠামো—সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই।
গোপালগঞ্জে এনসিপির ওপর ছাত্রলীগের পরিচালিত হামলার নিন্দা জানিয়ে নুর বলেন,
“গণঅভ্যুত্থানের অংশীদারদের বিভাজনের ফলে পতিত ফ্যাসিবাদ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গোপালগঞ্জে তার আলামত দেখা গেছে। তাই এখন আমাদের একতাবদ্ধ না হলে আবারও হারাতে হবে।”
রাজনীতিতে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ির সমালোচনা করে তিনি বলেন,
“জঘন্য ও নোংরা ভাষায় সমালোচনা করলে রাজনীতিতে পরস্পরের প্রতি সহাবস্থান থাকবে না।”
অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুরে বিএনপির মৌন মিছিলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ একেবারে ভিন্ন সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন,
“পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন বা স্থানীয় সরকার নির্বাচন যারা চায়, তাদের অসৎ উদ্দেশ্য আছে। এরা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চায়। পিআর পদ্ধতি খায় না মাথায় দেয়—কেউ জানে না।”
এ সময় তিনি আরও বলেন,
“শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে, দাফন হয়েছে দিল্লিতে।”
তার দাবি,
“একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে, নির্বাচন ঠেকিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চাইছে। এটা মূলত ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনার নীলনকশা।”
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, এই জুলাইয়ের মধ্যেই ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন না হলে ঐকমত্য কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারকে এর দায় নিতে হবে।
এই দুই ভিন্ন অবস্থান দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন প্রশ্ন তুলেছে—যেখানে একদিকে পিআর পদ্ধতিকে বিকল্প গণতান্ত্রিক কাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে তা নিয়ে চলছে বিভ্রান্তি ও বিভাজনের রাজনীতি। গোপালগঞ্জে এনসিপির ওপর চলমান সহিংসতার আবহে এই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে, আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যত।