জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন—সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না, আর সেই নির্বাচন অর্থবহও হবে না। বৃহস্পতিবার রাতে মানিকগঞ্জ শহীদ রফিক চত্বরে এক সমাবেশে তিনি বলেন,
“আমরা বলছি না গণঅভ্যুত্থানের পর তিন মাসের মধ্যে বা ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। আমরা বলছি, দেশের সংস্কারের পরেই নির্বাচন করতে হবে।”
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন,
“জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে একটি নতুন ব্যবস্থা কায়েমের জন্য। কিন্তু এখন কেউ কেউ সেই নতুন ব্যবস্থার কথা ভুলে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নির্বাচনের গল্প ফেঁদেছে। আমরা বলছি—সংসদ হতে হবে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট, আর উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।”
তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, তারা এ দেশে উন্নয়ন ও ইনসাফের ভিত্তিতে এক নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়তে চায়—যেখানে দুর্নীতি ও বৈষম্যের কোনো জায়গা থাকবে না।
গোপালগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের দোসরদের বর্বরোচিত হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা ভয় পাইনি। ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর হামলায় আমরা দমে যাইনি, যাবও না। আমাদের পদযাত্রা অব্যাহত থাকবে।”
সমাবেশে আরও বড় একটি অভিযোগ তোলেন এনসিপি আহ্বায়ক। তার ভাষায়,
“ইসলামের পক্ষে কেউ দাঁড়ালেই তাকে জঙ্গি, মৌলবাদী বলে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। আর যারা অসাম্প্রদায়িকতার বুলি আওড়ায়, তারাই হিন্দুদের সবচেয়ে বেশি জমি দখল করেছে। আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার নাম নিয়ে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সবচেয়ে বেশি লুটপাট চালিয়েছে।”
এই বক্তব্যে স্পষ্ট—এনসিপি শুধু আওয়ামী লীগ শাসনের পতন নয়, বরং একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা নিয়েই মাঠে নেমেছে। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব—সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের হাসনাত আব্দুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, ডা. তাসনিম জারা, মানিকগঞ্জের জাহিদুর রহমান তালুকদারসহ অনেকে।
এই বক্তব্য ও কর্মসূচি আবারও স্পষ্ট করে দিল, এনসিপি আর কেবল একটি দল নয়—এটি এখন গণআন্দোলনের প্রতীক, নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনার নাম।