“বিএনপিতে কোনো বেইমান নেই”
এই জোরালো ঘোষণা এসেছে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের কণ্ঠে, যা শুধু একটি বক্তব্য নয়, বরং রাজনৈতিক অঙ্গনে এক স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ। শাসকগোষ্ঠীর টার্গেটেড দমননীতি, ভেতর থেকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা এবং রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহারের বিপরীতে বিএনপির এই ঘুরে দাঁড়ানো প্রমাণ করে, দলটি এখনও জনগণের বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে আছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) ঢাকার দোহার উপজেলার কালেমা চত্বরে প্রাথমিক সদস্যপদ ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোহেল বলেন,
“এ দল ইমানদারদের, বিশ্বাসঘাতকদের না। রাজনৈতিক দল করতে হলে এই দলই করা উচিত। নানামুখী ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও বিএনপি গণমানুষের দল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। দলে যেন কোনো অপশক্তি ঢুকতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে সোহেল যে বার্তা দিয়েছেন তা সুস্পষ্ট—বিএনপি আজও আদর্শিক অবস্থান থেকে আপসহীন, আর এই দলকেই সামনে রেখে জনগণ আগামী দিনের বাংলাদেশকে গড়তে চায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক। তিনি বলেন,
“আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিস্ট দল। এ দলের নেতারা কিভাবে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছে, সেটা জনগণ জানে। যারা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলে, তারাই আজ পলায়নপর।”
আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মেছের এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবুল কালাম। উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা নুরুল ইসলাম বেপারী, পৌর বিএনপির সভাপতি এস এম কুদ্দুস, সাংগঠনিক সম্পাদক সেন্টু ভুইয়া, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আবুল হাসেম বেপারীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এই সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি বিএনপির রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত। যখন রাষ্ট্রীয় দমন, হামলা, মামলা ও ষড়যন্ত্রে বিরোধী রাজনীতি নির্মূলের চেষ্টা চলছে, তখন তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির এমন সাংগঠনিক শক্তি দেখানো প্রমাণ করে—এই দল ভেঙে পড়েনি, বরং আরও শক্তিশালী হচ্ছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে তারা ফের মাঠে নামছে, আর এই মাঠের লড়াই থেকেই গড়ে উঠবে আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশ।