জাবি প্রতিনিধি;
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই শহিদ দিবস’ উপলক্ষে ‘জুলাই-২৪ স্মৃতি সড়ক’ নামফলক উন্মোচন করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন,
“আজ শহিদ আবু সাঈদের পক্ষ থেকে আমাদের সকলকে জাগিয়ে তোলার পুনঃআহ্বান জানানোর দিন। নতুন যারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসবেন, তারা জুলাই-আগস্টের শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করবেন। এজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার প্রাথমিক শর্ত হলো স্বপ্নের জাহাঙ্গীরনগর নির্মাণ। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের
ভারপ্রাপ্ত ডিন ও ‘৩৬ জুলাই স্বৈরাচার হাসিনার পতন দিবস উদযাপন-২০২৫’ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক
ড. মো. আবদুর রব।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-
কর্মচারী ও আশপাশের স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে সকাল ১১টায় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে একটি শোক ও সম্প্রীতি র্যালি বের হয়, যা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানেই ‘জুলাই-২৪ স্মৃতি সড়ক’ হিসেবে উপাচার্যের বাসভবন থেকে চৌরঙ্গী পর্যন্ত রাস্তার নামকরণের ফলক উন্মোচন করা হয়।
আলোচনা সভা ও প্রার্থনা কর্মসূচি
জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে বিকেল ৫টায় জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত হয় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। এছাড়া ক্যাম্পাসের মসজিদ ও মন্দিরে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয় শহিদদের স্মরণে।
কালরাত্রি পালিত, স্মৃতিচারণ ও মোমবাতি প্রজ্বলন
এর আগের দিন, সোমবার ১৫ জুলাই রাতে ‘কালরাত্রি’ উপলক্ষে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আয়োজিত হয় ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, স্মৃতিচারণ, ব্ল্যাকআউট ও মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি।
রাত ১২টায় ব্ল্যাকআউট শেষে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। এ সময় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিগুলো তুলে ধরেন।