বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যা যা করা দরকার ছিল, তারা সবই করেছেন।
সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিবগা বলেন, কোটা আন্দোলন নতুন কিছু নয়, বরং ৯০ দশক থেকে শিবির এর বিরুদ্ধে সোচ্চার। ২০১৮ সালের আন্দোলনে ঢাবি ছাত্র হিসেবে তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালে কোটা বাতিলের পর আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে শিবিরের নেতৃত্বে বৈঠক হয়, কর্মসূচি নেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দল শিক্ষার্থীদের দমনে নানা বাধা দিয়েছে—হল প্রভোস্টদের নির্দেশ, ছাত্রলীগের হামলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়াবাড়ি ছিল। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আন্দোলনকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
১৫ জুলাইয়ের ছাত্রলীগ হামলা নিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার “রাজাকারের বাচ্চা” মন্তব্যে ক্ষোভে ফেটে পড়ে পুরো ক্যাম্পাস। শিবির তাদের লোকজন সমন্বয় করে রাজু ভাস্কর্য ও শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শহীদুল্লাহ হলে শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ অবস্থায় মুক্ত করা হয়।
তিনি জানান, ৯ দফা দাবি ছাত্রশিবিরই তৈরি করে ছড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে একদফা আন্দোলনের বীজ ছিল। জুলাইয়ের শেষদিকে আন্দোলন একদফার রূপ নেয়।
সিবগা বলেন, আন্দোলন ব্যর্থ হলে সরকারের দমন-পীড়ন আরও ভয়াবহ হতো, শিবির নিষিদ্ধ থাকত, সাধারণ শিক্ষার্থী ও নাগরিক অধিকার হারাত। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগকে ফেলে দেওয়া তখন খুব দরকার ছিল।”
তিনি স্বীকার করেন, আন্দোলন সফল হলেও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সংস্কার হয়নি। “ক্ষমতায় শুধু মানুষ বদলেছে, সিস্টেম ঠিকই আছে”—বলেছেন সিবগা।