রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড প্রয়োগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—সরকার কি দাবি শোনা বন্ধ করে শুধু দমনেই বিশ্বাস রাখছে?
তিন দফা দাবি নিয়ে রাজধানীর শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র দিকে যাত্রা শুরু করলে সোমবার (৭ জুলাই) কাকরাইল মোড়ে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এতে অন্তত দুইজন বিডিআর সদস্য আহত হন।
প্রতিদিন বেকারত্ব, অবিচার ও রাজনৈতিক অনীহায় পিছিয়ে পড়া একটি শ্রেণি যখন আইনি অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় রাজপথে নামে, তখন তাদের জবাব দেওয়া হয় কাঁদানে গ্যাস আর জলকামানে—এমন চিত্র ফের স্পষ্ট হলো কাকরাইলে।
চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যরা সকাল থেকেই শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন। তারা সাফ জানিয়ে দেন, দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন চলবে। এরপর সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে যমুনার উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে রওনা দেন তারা।
কিন্তু কাকরাইলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ বাধা দেয় এবং পদযাত্রা ব্যারিকেড দিয়ে থামানোর চেষ্টা করে। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ শক্তি প্রয়োগ করে।
পুলিশ সূত্র বলছে, বাংলাদেশ সচিবালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি। এরপরও যমুনার উদ্দেশে পদযাত্রা করায় তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সমাবেশ নিষিদ্ধ করাই যদি সব সমস্যার সমাধান হতো, তাহলে আন্দোলন রাজপথে গড়াত না। রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞার আড়ালে যে ন্যায্য দাবিগুলো ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে, তার জবাব কে দেবে?
রাজনীতি যখন নীরব, তখন রাজপথই হয়ে ওঠে মানুষের শেষ ভরসা। আর কাকরাইলের ঘটনার পর এটাও স্পষ্ট—তাদের কণ্ঠ রোধ করতে সরকার এখন জলকামানেই ভরসা করছে।